শিরোনাম

ঢাকা, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বাসস) : ক্রীড়া ক্ষেত্রে নারীর সমান সুযোগ, নিরাপত্তা ও অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ব্রাইটন অ্যান্ড হেলসিঙ্কি ডিক্লারেশন’-এ স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। যা নারী ক্রীড়া উন্নয়নে ঐতিহাসিক এক পদক্ষেপ।
আজ (বুধবার) রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন উইমেন অ্যান্ড স্পোর্টস’-এর পক্ষে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেন সংস্থাটির মহাসচিব লিসা ও’ কিফ এমবিই।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, ‘ব্রাইটন অ্যান্ড হেলসিঙ্কি ডিক্লারেশন’ - এ স্বাক্ষরের মাধ্যমে নারী ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে নারীদের সমান সুযোগ, নিরাপত্তা ও অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হলো।
বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি বলেন, ‘ক্রীড়া ক্ষেত্রকে নারীদের জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে এই ঘোষণা একটি শক্তিশালী নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।’
ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রে যেকোনো নীতি ও অবকাঠামো তৈরির সময় নীতি নির্ধারকদের লিঙ্গ সংবেদনশীল হওয়া জরুরি। তিনি ক্রীড়া ক্ষেত্রে নারীদের সুরক্ষার উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেন।
বর্তমান সরকারকে ক্রীড়া বান্ধব হিসেবে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম রাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুব ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি উইং গঠিত হয়েছে। একই সাথে ক্রীড়া ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয়ভাবে নারী সুরক্ষা কমিটি গঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আইডব্লিউজি-এর মহাসচিব লিসা ও’কিফ বলেন, ‘বাংলাদেশে নারী ক্রীড়ার অগ্রগতি ও ক্ষমতায়নে এই চুক্তি স্বাক্ষর একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বিশ্বজুড়ে নারী ক্রীড়াবিদদের অধিকার ও সুযোগ প্রসারে আন্তর্জাতিক এই নেটওয়ার্কের সাথে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’
লিসা ও’কিফ আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার অনুসরণে বাংলাদেশের অন্যান্য ফেডারেশনগুলোও এই সনদে স্বাক্ষর করতে এগিয়ে আসবে।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাই কমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সিলর রোজি কম্বি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি শাখার প্রধান বি এম জামাল হোসেন, বাংলাদেশ নারী সুরক্ষা কমিটির চেয়ার জোবেরা রহমান লিনু, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শেফাউল কবির, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ), বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি), যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নারী সুরক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।