বাসস
  ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪৪
আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪৭

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগিতা শুরু

ছবি: বাসস

ঢাকা, ২৪ আগস্ট ২০২৬ (বাসস) : আজ থেকে রাজধানীর বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে শুরু হয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও মর্যাদাপুর্ন প্রতিযোগিতা "বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ ২০২৬"। 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল মো: হাসান উজ জামান প্রধান অতিথি হিসাবে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রোমোটর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জি এম কামরুল ইসলাম (অব:), বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির নির্বাহী কর্মকর্তা কর্নেল মোহাসিনুল করিম (অব:)।

পাঁচ দিন ব্যাপী এবারের আসরে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ১১টি দেশের ২৪ জন পেশাদার স্কোয়াশ খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, হংকং, সিঙ্গাপুর, ইরান, কুয়েত, বাহরাইন, মিশর, জাপান ও জার্মানি। 

আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কধারী পেশাদার খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে এবারের টুর্নামেন্ট অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এবার পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ প্রায় ১৭ টি দেশের ৮৪ জন পেশাদার স্কোয়াশ খেলোয়াড় অংশগ্রহণের জন্যে রেজিষ্ট্রেশন করলেও পেশাদার স্কোয়াশ এসোসিয়েশনের বাধ্য-বাধকতা এবং প্রতিযোগিতার ড্র সাইজের জন্যে প্রথম দিকের ২১ জন বিদেশি খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করবে। 

বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্ব র‌্যাঙ্কধারী ১১ জন পেশাদার স্কোয়াশ খেলোয়াড় আছে। এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ তরুন প্রতিভা আমিনুল (৬৯৬ তম), সাইমন (৭৭৫ তম) ও পারভেজদের (৮৭৫ তম) সাথে আরও রয়েছে মিশরের মো: গহর (বিশ্বের ৯১ তম), জাপানের নওকি হারিস (১১৭ তম), রভিন্দ্র লক্ষীশ্র (১৪৮ তম), আয়ন ভিজালি (১৭৩ তম), সিংঙ্গাপুরের জেরোম আও (১৮৫ তম), বাহরাইনে ইউসুফ থানি (২২৪ তম), হংকং-এর ইউলসন চেন (৩৩৭ তম), জার্মানীর ইউহোকম বিলিকভ (৩৪১ তম), কুয়েতের বদর আলমঘারাবি (৩৫৬ তম) ও ইরানের সিপার এতিমাডপোর মত খেলোয়াড়রা।

বিগত ছয় বছরে নানা প্রতিকূলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্কোয়াশ খেলায় এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় ও আদর্শ "স্কোয়াশ ডেস্টিনেশন" হিসেবে গড়ে তুলতে এই আন্তর্জাতিক আসর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

আয়োজকদের মতে, স্কোয়াশকে নির্দিষ্ট গন্ডি থেকে বের করে তৃণমূল এবং সাধারণ মানুষের দ্বারে পৌঁছে দিতে ‘ক্লাসরুম স্কোয়াশ’ এবং ‘স্কোয়াশ ও শিক্ষা বৃত্তি’-এর মতো বৈপ্লবিক ও জনবান্ধব প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর ফলে একসময় কেবল অভিজাতদের খেলা হিসেবে বিবেচিত স্কোয়াশ এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠে জায়গা করে নিয়েছে। সীমিত সম্পদের দেশগুলোর জন্য বাংলাদেশের এই সাফল্য ও তৃণমূল উন্নয়ন কার্যক্রম একটি অনুসরণযোগ্য বৈশ্বিক মডেল হতে পারে। 

আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগতাটি আগামী ২৮ আগস্ট শেষ হবে।