বাসস
  ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৬:০৪

শেষ মুহূর্তের গোলে সিটির জয়, নাটকীয় ড্রয়ে রক্ষা পেল লিভারপুল

ঢাকা, ২৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): পেপ গার্দিওলার পর ম্যানচেস্টার সিটির নতুন যুগের শুরুটা নাটকীয় করে তুললেন এনজো মারেসকা। রোববার শেষ মুহূর্তের গোলে বোর্নমাউথকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে সিটি। অন্যদিকে লিভারপুলের নতুন কোচ হিসেবে প্রথম ম্যাচে নিউক্যাসলের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে কোনোমতে পরাজয় এড়িয়েছেন আন্দোনি ইরাওলা।

প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম দুই বড় ক্লাব যখন নতুন যুগের সূচনা করছিল, দিন শেষে মারেসকাই ছিলেন বেশি স্বস্তিতে। তবে দুই কোচই নিজেদের দলের পারফরমেন্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি।

ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে মার্কাস ট্যাভার্নিয়ের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল বোর্নমাউথ। তবে শেষ কয়েক মিনিটে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় মারেসকার দল।

ফরাসি প্লেমেকার রায়ান শেরকিকে বদলি হিসেবে নামানোর মারেসকার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেয়। শেরকি দুই গোলেই সহায়তা করেন। ম্যাচ শেষের ছয় মিনিট আগে তার ক্রস থেকে মার্ক গুয়েহি হেডে সিটির সমতাসূচক গোল করেন। এরপর যোগ করা সময়ে জাসকো গাভারডিওল গোল করে সিটির জয় নিশ্চিত করেন।

সিটির সঙ্গে দুর্দান্ত এক দশকে গার্দিওলা ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাসহ মোট ২০টি ট্রফি জিতেছিলেন। ২০১৬ সালে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে শেষ মুহূর্তের জয় দিয়ে গার্দিওলার যুগ শুরু হয়েছিল। মারেসকার আশা তার নিজের এই কষ্টার্জিত জয়ও সমান সফল এক অধ্যায়ের সূচনা করবে।

গত সপ্তাহের কমিউনিটি শিল্ডে আর্সেনালের কাছে ৩-০ গোলে সিটির নিষ্প্রভ পরাজয় লিগের শুরুতেই সাবেক চ্যাম্পিয়নদেও শীর্ষ ক্লাবগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল।

লিগের প্রথম ম্যাচের বেশিরভাগ সময় আক্রমণে সিটির ছিল সৃষ্টিশীলতার অভাব, আর রক্ষণে ছিল সমন্বযয়ের ঘাটতি। তবে শেষ পর্যন্ত জয়ের পথ খুঁজে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পেরেছেন মারেসকা।

“তার প্রভাব ছিল অবিশ্বাস্য। সে এমনই ধরনের খেলোয়াড়,” বলেন মারেসকা।

“আমি রায়ানকে পছন্দ করি, ম্যাচের পরও তাকে সেটা বলেছি। তবে কখনো কখনো আপনি যখন ম্যাচের পরিকল্পনা করেন এবং ছুটির পর দেরিতে ফেরা ১১ জনের মধ্যে চারজনকে একাদশে রাখেন, তখন আরও একজনকে খেলালে পার্থক্যটা হয়তো অনেক বড় হয়ে যেতে পারে।”

ম্যাচের শেষ কিক হিসেবে পেনাল্টি থেকে গোল করে লিভারপুলকে রক্ষা করেন মিডফিল্ডার ডোমিনিক সোবোসলাই। ফলে সেন্ট জেমস’ পার্কে অভিষেক ম্যাচেই ইরাওলার পরাজয় এড়ানো সম্ভব হয়।

আর্নে স্লটকে মৌসুম শেষে বরখাস্ত করা, মোহাম্মদ সালাহর ত্রাবজোনস্পোরে চলে যাওয়া এবং অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা ও ধনকুবের জেফ বেজোসের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়ামের বড় বিনিয়োগের পর লিভারপুলের পুনর্গঠনের প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন ইরাওলা।

ভবিষ্যতের পথে লিভারপুলের প্রথম পদক্ষেপটা ছিল অস্বস্তিকর। নিউক্যাসল এমন কিছু রক্ষণাত্মক দুর্বলতা প্রকাশ করে, যা গত মৌসুমে স্লটের জন্য মারাত্মক হয়ে উঠেছিল।

প্রথমার্ধে অ্যান্থনি এলাঙ্গার গোলে এগিয়ে যায় নিউক্যাসল। বিরতির পরপরই কোডি গাকপো সমতা ফেরান।

এরপর জো উইলক ২০২৪ সালের পর প্রিমিয়ার লিগে নিজের প্রথম গোল করে নিউক্যাসলকে আবারও এগিয়ে দেন। কিন্তু যোগ করা সময়ে লুইস হল ভিক্টর মুনোজকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় লিভারপুল। চাপের মধ্যে ঠান্ডা মাথায় গোল করে সোবোসলাই দলকে ২-২ সমতায় ফেরান।

ইরাওলার শুরুটা তাই ছিল মিশ্র অনুভূতির। তার দলের হার না মানার মানসিকতা থেকে তিনি আশাবাদী হতে পারেন, তবে দলের অনিশ্চিত পারফরমেন্স তাকে উদ্বিগ্ন করবে।

দিনের আরেক ম্যাচে দুই মিনিটের ব্যবধানে জ্যাক হিনশেলউডের জোড়া গোলে অ্যাস্টন ভিলার তারকা খেলোয়াড়দের বিদায়ের সুযোগ নিয়ে ৪-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে ব্রাইটন। ইউরোপা লিগজয়ী ভিলাকে কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে তারা।

গত মৌসুমের পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় বিক্রি করে দেওয়ার পর অ্যামেক্স স্টেডিয়ামে আসে ভিলা। দলটিতে এখন কোনো স্বীকৃত স্ট্রাইকারও নেই। এদিকে অলি ওয়াটকিন্সকে ঘিরে দলবদলের জল্পনা চলছে।

আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেস এবং ইংল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ওয়াটকিন্স ভিলার স্কোয়াডে ছিলেন না। ধারণা করা হচ্ছে, এজরি কনসা, ইউরি টিলেমান্স, লুকাস দিনিয়ে ও মরগান রজার্সের মতো তারকারাও ক্লাব ছাড়ার পথে রয়েছেন।

ভিক্টর লিন্ডেলফের হাস্যকর আত্মঘাতী গোল এবং ম্যাক্সিম ডি কুইপারের গোল ব্রাইটনের বড় জয়ের ভিত্তি তৈরি করে।

এরপর মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে হিনশেলউডের জোড়া গোল উনাই এমেরির দলকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে লিগে অভিষেকেই ভিলার মিডফিল্ডার হুয়াও গোমেস লাল কার্ড দেখলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায়।