বাসস
  ১৯ জুলাই ২০২৬, ১৫:১২
আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১৫:২৯

বিশ্বকাপের আলোচিত মুহূর্ত : ‘ভাইকিং রো’ থেকে ক্ষুদে দলগুলোর চমক

ঢাকা, ১৯ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ দর্শকদের উপহার দিয়েছে দারুণ রোমাঞ্চ, নাটকীয়তা এবং অসংখ্য আলোচিত ঘটনা।

কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আসরের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরেছে এএফপি স্পোর্ট।

গোল্ডেন বুট লড়াই :

গোল্ডেন বুটের লড়াই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই জমে ওঠে এবং ফাইনালের আগ পর্যন্ত তা ছিল সমান আকর্ষণীয়।

সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে টিকে ছিলেন বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকারদের কয়েকজন, লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড ও হ্যারি কেইন।

শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ফ্রান্সের ৬-৪ গোলে হারের ম্যাচে জোড়া গোল করা এমবাপ্পে এখন মেসির চেয়ে দুই গোল এগিয়ে রয়েছেন। এখন বাকি রয়েছে শুধু ফাইনাল। এই মুহূর্তে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ১০, মেসির ৮।

এছাড়া এমবাপ্পে এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তিনটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা ২২, যা মেসির চেযয়ে একটি বেশি।

ক্ষুদে দলগুলোর চমক :

বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দে গ্রুপপর্বে অপরাজিত থেকে নকআউট পর্বে ওঠে। তাদের গ্রুপে ছিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগয়ের মতো শক্তিশালী দল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচ থেকে বিদায় নেয় আফ্রিকান দলটি। 

নক আউট পর্বে আফ্রিকার দেশটি লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে। তারা দুইবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা জয়সূচক গোল করে।

অন্যদিকে জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সবচেয়ে ছোট দেশ ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ কুরাসাও জার্মানির কাছে প্রথম ম্যাচে ৭-১ গোলে হারার পর ইকুয়েডরের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে নিজেদের স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেয়।

আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন :

২০২৬ বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে বারবারই আর্জেন্টিনাকে দুর্বল মনে হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই তারা ফিরে আসার পথ খুঁজে নিয়েছে।

গ্রুপপর্ব সহজেই পার করলেও শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে তাদের অতিরিক্ত সময় খেলতে হয়। মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের শেষদিকে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও তারা ঘুরে দাঁড়ায়।

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারাতেও অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হয়। আর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের দুই গোলে জয় ছিনিয়ে নিয়ে ফাইনালে ওঠে।

আর্জেন্টিনা হয়তো নান্দনিক ফুটবল খেলেনি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।

বালোগান বিতর্ক :

মাঠের বাইরের বিতর্ক থেকে প্রায় পুরো টুর্নামেন্টই মুক্ত ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগান এক রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসেন।

তিন গোল করা এই ফরোয়ার্ড বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন, ফলে পরের ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু ফিফা তার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছিলেন।

তবে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় এবং বালোগানও ম্যাচে তেমন কোনো প্রভাব রাখতে পারেননি।

পরে ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড স্বীকার করেন, পুরো ঘটনাটি দলের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছিল।

হালান্ডের ‘ভাইরাল’ মুহূর্ত :

আর্লিং হালান্ড নরওয়েকে ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য এনে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা স্ট্রাইকার টুর্নামেন্ট চলাকালে ইনস্টাগ্রামে আরও ৩ কোটি নতুন অনুসারী পান। ফলে তার অনুসারীর সংখ্যা বেড়ে ৭ কোটি ১০ লাখেরও বেশি হয়েছে।

কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেওয়া ২৫ বছর বয়সী হালান্ডের ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা এখন ম্যানচেস্টার সিটির অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টের চেয়েও অনেক বেশি।

তার একটি বহুল আলোচিত পোস্টে ছিল ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন, যা টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্য হয়ে ওঠে। এই উদযাপনে খেলোয়াড়রা নরওয়ের সমর্থকদের নিয়ে কাল্পনিক একটি ভাইকিং নৌকায় বৈঠা চালানোর ভঙ্গিতে ছন্দময়ভাবে দুলতে থাকেন।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ বিতর্ক :

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার সেমিফাইনালের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, যা স্প্যানিশ ভাষায় মালভিনাস নামে পরিচিত।

ম্যাচে এক গোল পিছিয়ে পড়েও আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন।

এরপর ব্রিটেন ঘটনাটি তদন্তের জন্য ফিফার প্রতি আহ্বান জানায়। ফিফা এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ম্যাচ কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে।