বাসস
  ১১ জুলাই ২০২৬, ২১:২৯

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বাংলাদেশ

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বোলারদের পর দুই ওপেনারের দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। 

আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ৮৪ বল বাকী থাকতে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডে যথাক্রমে- ২৫ ও ১৩ রানে হেরেছিল টাইগাররা। 

শেষ ম্যাচ হারলেও, ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে জিম্বাবুয়ে। ২০২২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজও ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল তারা। ওয়ানডে সিরিজের আগে চলতি সফরে এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জিতেছে জিম্বাবুয়ে। 

হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। বল হাতে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। 

ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে জিম্বাবুয়ে ওপেনার বেন কারানকে ২ রানে বোল্ড করেন শরিফুল। পরের ওভারের শুরুতে উইকেট শিকারে মাতেন তাসকিন। আরেক ওপেনার ব্রায়ান বেনেটকে ৬ রানে ফিরিয়ে দেন তাসকিন। 

১৭ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের বিদায়ে চার নম্বরে ব্যাট হাতে নামেন ক্রেইগ আরভিন। শরিফুলের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ৫ রানে আউট হন তিনি। 

২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। চতুর্থ উইকেটে ৮২ বলে ৫১ রানের জুটিতে শুরুর চাপ সামাল দেন ইনোসেন্ট কাইয়া ও ওয়েসলি মাধভেরে। এই জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন তাসকিন। ৬৭ বলে ২৫ রান করা কাইয়াকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান তাসকিন।  

পঞ্চম উইকেটে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সিকান্দার রাজার সাথে ২৯ রানের জুটিতে দলের রান ১শ পার করেন মাধভেরে। দলীয় ১০৭ রানে বাংলাদেশ স্পিনার তানভীর ইসলামের শিকার হন ১টি ছক্কায় ১১ রান করা রাজা।

ক্রিজে আসা নতুন ব্যাটার ক্লাইভ মাদান্দেকে ১ রানে বিদায় করেন শরিফুল। ১০৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। এ অবস্থায় জুটি গড়ার চেষ্টা করেন মাধভেরে ও ব্রাড ইভান্স।

দুজনের ৪১ বলে ৪৩ রানের জুটিতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ইনিংস বড় করার চেষ্টা করেন মাধভেরে। তবে ব্যক্তিগত ৭৫ রানে তানভীরের বলে বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজকে ক্যাচ দেন তিনি। ৭৪ বল খেলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন মাধভেরে। 

দলীয় ১৫১ রানে সপ্তম ব্যাটার হিসেবে মাধভেরে ফেরার পর জিম্বাবুয়ের রানের চাকা সচল রাখেন ইভান্স। অষ্টম উইকেটে ওয়েলিংটন মাসাকাদজার সাথে ২০ ও নবম উইকেটে আর্নেস্ট মাসুকুকে নিয়ে ২৬ রান যোগ করেন ইভান্স। 

৪১ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পান ইভান্স। ৪৮তম ওভারে দলীয় ১৯৭ রানে শরিফুলের বলে নবম ব্যাটার হিসেবে আউট হবার আগে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪৩ বলে ৫০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। 

ইভান্স ফেরার পর ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। ৪৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফল বোলার শরিফুল। ২টি করে উইকেট নেন তাসকিন ও তানভির। ১ উইকেট শিকার করেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। 

জবাব দিতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে বাংলাদেশ। ১০ ওভারে ৫৯ রান তোলেন টাইগার দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকার। এরপর ১৯তম ওভারে দলের রান ১শতে নেন তারা। 

দলের রান তিন অংকে পৌঁছে দেওয়ার পথে ব্যক্তিগত ২৭ ও ৩৭ রানে জীবন পান তানজিদ। তারপরও ৪৯ বল খেলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। 
তানজিদের পর হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান সৌম্যও। ৬৪ বলে ওয়ানডেতে ১৫তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। 

২৮তম ওভারে দলীয় ১৫১ রানে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন জিম্বাবুয়ের পেসার তানাকা চিভাঙ্গা। ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮২ বলে ৬৯ রান করে চিভাঙ্গার বলে বোল্ড হন সৌম্য। 

সৌম্য ফেরার পর দ্বিতীয় উইকেটে ৩৯ বলে ৪৬ রানের জুটিতে বাংলাদেশের জয়ের পথ সহজ করেন তানজিদ ও নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু জয় থেকে ৩ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ। জিম্বাবুয়ের পেসার আর্নেস্ট মাসুকুর শিকার হওয়ার আগে ৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১০১ বলে ৯৪ রান করেন তিনি। 

চার নম্বরে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই মাসুকুর দ্বিতীয় শিকার হন তাওহিদ হৃদয়। এরপর বাকী ৩ রান তুলে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন শান্ত ও নুরুল হাসান। শান্ত ১৮ রানে ও নুরুল শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ের মাসুুকু ২টি ও চিভাঙ্গা ১টি উইকেট নেন। 

ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন বাংলাদেশের তানজিদ ও সিরিজ সেরা হন জিম্বাবুয়ের ইভান্স। 

আগামী ১৫ জুলাই থেকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

জিম্বাবুয়ে : ১৯৯/১০, ৪৮.১ ওভার (মাধেভেরে ৭৫, ইভান্স ৫০, শরিফুল ৪/৪৪)।

বাংলাদেশ : ২০০/৩, ৩৬ ওভার (তানজিদ ৯৪, সৌম্য ৬৯, মাসুকু ২/৩৩)। 

ফল : বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতল জিম্বাবুয়ে।