শিরোনাম

ঢাকা, ১২ মে ২০২৬ (বাসস) : দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের স্বাদ নেয় বাংলাদেশ। টেস্ট ফরম্যাটে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে প্রথমবারের মত হারায় টাইগাররা। এই ঐতিহাসিক জয়ই প্রমান করে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। ম্যাচ শেষে এমনটাই বলেছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘টেস্ট জয়ে আমি খুব খুশি। ছেলেরা যেভাবে খেলেছে তাতে আমি গর্বিত। গত কয়েক মাস আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। ধীরে ধীরে আমরা টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতি করছি, এটাই সব সময় চেয়েছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘ম্যাচ জেতাই মূল লক্ষ্য ছিল। কোচও এই মেসেজই দিয়েছেন। আমরা সবাই বিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। একবারের জন্যও আমরা ড্র বা হারের চিন্তা করিনি।’
পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনের শেষভাগে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষনা করে বাংলাদেশ। এসময় বাংলাদেশের লিড ছিল ২৬৭ রানের। কিন্তু আরও ১৫-২০ রান করার ইচ্ছা ছিল শান্তর। দলের বোলিং অ্যাটাকের কথা চিন্তা করে তখনই ইনিংস ঘোষনা করেন তিনি। তাসকিন-মিরাজ-রানাদের উপর আস্থার কথা জানান শান্ত, ‘ব্যাটিংয়ে সকাল থেকে ক্লিয়ার ছিলাম আমরা কি করতে চাই। আমাদের ইচ্ছা ছিল আরও ১৫-২০ রান করার। কিন্তু একসময় মনে হয় যে এরকম সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়াটা জরুরি। এই সিদ্ধান্তটা নেওয়ার পেছনে কারণ হলো আমাদের বোলিং অ্যাটাক। এই ইনিংসে মিরাজ যেভাবে শুরু করেছে, তাসকিন যেভাবে প্রথম উইকেটটা নিল, সেখান থেকে মোমেন্টাম পাওয়া গেছে। তারপরে তাইজুল ভাই মিডল ওভারে দারুণ বোলিং করেছেন। বিশেষ করে এই ইনিংসে তাসকিন এবং রানার এই স্পেলটা অসাধারণ ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভালো পাঁচটা বোলার আছে বলেই এমন সাহস নিতে পারছি। তবে বোলিং ইউনিটে আরও উন্নতির জায়গা আছে। রানার বিষয়ে যেটা হয়েছে, উইকেট একটু ড্রাই ছিল এবং সে জোরে বল করলে লাইনটা কি হবে তা নিয়ে আলাপ হয়েছে। এখানে মুশফিক ভাইকেও ক্রেডিট দিতে হবে কারণ উনি রানার সাথে অনেক আলোচনা করেছেন।’
২৬৮ রানের টার্গেটে চা-বিরতি পর্যন্ত ৩ উইকেটে ১১৬ রান তুলেছিল পাকিস্তান। ম্যাচ জিততে শেষ সেশনে ৭ উইকেট দরকার ছিল বাংলাদেশের। এ অবস্থায় রান আটকানোর পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। শান্ত বলেন, ‘চা-বিরতি পর্যন্ত খেলা একদম ফিফটি-ফিফটি ছিল। ওদেরও জেতার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। আমি একটু ইন অ্যান্ড আউট ফিল্ড সাজানোর চেষ্টা করেছিলাম এবং একটা পরিকল্পনা করেছি যে কিভাবে রান না দিয়ে বল করতে পারি। কারণ এই উইকেটে অনেকক্ষণ ডিফেন্স করে থাকাটাও কঠিন। তবে লক্ষ্য ছিল এখান থেকে যেন ম্যাচটা তারা বের করে না নিতে পারে।’
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সফল বোলার নাহিদ রানা। ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন তিনি। রানার প্রশংসা করে শান্ত বলেন, ‘আমরা জানি, রানা কত জোরে বল করে। তার সাথে স্কিলটাও আস্তে আস্তে উন্নতি করছে। ওটা অনেক উপভোগ করছে সে। তার ডেলিভারিগুলো প্রতিপক্ষ যেভাবে ভয় পাচ্ছিল এটা দেখতে অবশ্যই ভালো লেগেছে। সে যেভাবে টিমের জন্য অবদান রাখতে পারছে তাতে আমি খুবই খুশি।’
দারুন এক রিভার্স সুইংয়ে পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বোল্ড করেন রানা। মূলত সেখান থেকে ম্যাচের মোড় বাংলাদেশের দিকে পুরোপুরি ঘুরে যায়। রানার ঐ ডেলিভারি নিয়ে শান্ত বলেন, ‘রানার বল যে ওভাবে ভেতরে আসবে এটা আমি আর লিটন আশা করিনি। এটা একটা পজিটিভ দিক যে সে রিভার্স করাতে শিখছে।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের নায়ক শান্ত। প্রথম ইনিংসে ১০১ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রান করে ম্যাচ সেরা হন তিনি। নিজের পারফরমেন্স নিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমার মনে হয় শেষ ইনিংসটা আরও বড় হতে পারতো। উইকেটটা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল, স্পেশালি প্রথম দুই-তিন ঘণ্টা। সেকেন্ড ইনিংসে আমি যেভাবে ব্যাটিং করতে চেয়েছি, করতে পেরেছি। সব মিলিয়ে ব্যাটিং ভালো হয়েছে, কিন্তু প্রথম ইনিংসটা আরও বড় হতে পারতো।’