বাসস
  ০১ মে ২০২৬, ০৯:৫০

আফগান নারী ফুটবলারদের ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ উদযাপন

ঢাকা, ১ মে ২০২৬ (বাসস) : ফিফার নিয়ম পরিবর্তনের ফলে আফগানিস্তানের নারী ফুটবলাররা এখন আনুষ্ঠানিক ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন। এটিকে “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন দলটির সাবেক অধিনায়ক খালিদা পোপাল।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে আফগানিস্তান নারী বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ পাবে, যা পোপালের ভাষায় একটি দীর্ঘ সংগ্রামের ফল।

কোপেনহেগেন থেকে পোপাল বলেন, “আজ সকালে আমি কল্পনা করেছি- একজন তরুণ আফগান মেয়ে ঘুম থেকে উঠে বলছে, ‘আমার খেলার অধিকার আছে’। এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার।”
তিনি আরও বলেন, “এটি অসাধারণ খবর, একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা আমরা এখন অনুভব করার চেষ্টা করছি।”

আফগানিস্তান নারী জাতীয় দলটি ২০০৭ সালে কাবুলে পোপাল ও অন্যান্য খেলোয়াড়দের উদ্যোগে গঠিত হয়। ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ১০০ জন খেলোয়াড় ও তাদের পরিবারকে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে সরিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া দলের সদস্যরা ইউরোপ, ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রেও চলে যান।

বর্তমানে আফগানিস্তানে নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ, এমনকি গোপনে আয়োজিত অনুশীলন কার্যক্রমও বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। পরবর্তীতে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক আফগান শরণার্থী খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়, যারা গত বছর মরক্কোতে ফিফা ইউনাইটস উইমেন্স সিরিজে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে।

তবে আগে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী আফগান ফুটবল ফেডারেশনের অনুমোদন ছাড়া তারা কোনও ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারত না। এসপ্তাহে ফিফার সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সমঝোতার মাধ্যমে আফগান নারী দলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব হবে।

এই নিয়মটি বিশেষ পরিস্থিতিতে থাকা অন্য দলগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যারা নিজেদের জাতীয় দল নিবন্ধন করতে পারছে না।

পোপাল বলেন, “এটি দীর্ঘ সংগ্রাম ছিল, কিন্তু আমরা কৃতজ্ঞ- এই ইতিহাস শুধু আফগান নারীদের জন্য নয়। ভবিষ্যতে কোনও দলকে যেন আমাদের মতো কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করতে না হয়।”

তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পোপাল বলেন, “এই ঘোষণা আমাদের প্রবাসী খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করার সুযোগ দেবে।

আফগানিস্তান ২০২৭ সালের নারী বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে অংশ নিতে পারবে না, তবে ভবিষ্যতের আসরগুলোতে সুযোগ পাবে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, “বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এটি একটি শক্তিশালী ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ। প্রতিটি নারীর ফুটবল খেলার অধিকার রক্ষা করা এবং নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ নিশ্চিত করা ফিফার দায়িত্ব।’’