শিরোনাম

ঢাকা, ২৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : মিশরের মোহাম্মদ সালাহ এবং বেলজিয়ামের অভিজ্ঞ তারকা কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকু ও থিবো কুর্তোয়ার সামনে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে সম্ভবত গৌরবময় জয়ের এবারই শেষ সুযোগ। সেই লক্ষ্যেই তার গ্রুপ-জি’তে খেলতে নামছেন।
এই দুই দেশের সাথে গ্রুপ-জি’তেন আরও রয়েছে নিউজিল্যান্ড ও ইরান।
২০১০-এর দশকের শুরুতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বেলজিয়ামের তথাকথিত “গোল্ডেন জেনারেশন”-এর আবির্ভাব ঘটে। ইডেন হ্যাজার্ড, ভিনসেন্ট কোম্পানি, ডি ব্রুইনা, লুকাকু ও কুর্তোয়ার মতো তারকাদের নিযয়ে গঠিত সেই দলটি দেশটির জন্য নতুন এক যুগের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছিল। এই দলটি প্রথম বড় কোনো শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছিল।
কিন্তু ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর দল হওয়া সত্ত্বেও তারকাখচিত সেই দলের সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন।
সেই প্রজন্মের এখন কেবল নাপোলি জুটি ডি ব্রুইনা ও লুকাকু রয়েছেন, যাদের বয়স যথাক্রমে ৩৪ ও ৩৩ বছর। তাদের সাথে রয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক কুর্তোয়া। তিনি গত বছর সাবেক কোচ ডোমিনিকো টেডেসকোর র সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে দলে ফেরেন। সেই বিরোধের কারণে কুর্তোয়া ইউরো ২০২৪-এ বেলজিয়ামের শেষ ষোলোর বিদায় ম্যাচটি মিস করেছিলেন।
এই ত্রয়ী ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন বিশ্বকাপই হয়তো দীর্ঘদিনের আশা ও প্রত্যাশাকে বাস্তব রূপ দিয়ে কোনো শিরোপা জয়ের শেষ সুযোগ।
তবে বর্তমান বেলজিয়াম দলেও প্রতিভার অভাব নেই। আমাডু ওনানা, চার্লস ডি কেটেলেয়ার, জেরেমি ডকু ও ইয়োরি টিয়েলেমানসের মতো খেলোয়াড়রা তাদের তারকা সতীর্থদের দারুণ সহায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারেন।
এদিকে নিজ দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা সালাহ, যিনি বিশ্বকাপ চলাকালে ৩৪ বছরে পা দেবেন, নিঃসন্দেহে তুলনামূলক সংযত প্রত্যাশা নিয়েই টুর্নামেন্টে নামবেন। কারণ ২০১০ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো আফ্রিকান নেশন্স কাপ জয়ের পর থেকে মিশর আর কোনো শিরোপা জিততে পারেনি।
উত্তর আফ্রিকার দেশটির ইতিহাসের সেরা ফুটবলার হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত হলেও লিভারপুলের কিংবদন্তি সালাহ কখনও মিশরের হয়ে বড় কোনো সাফল্যের স্বাদ পাননি।
২০১৮ সালে তার একমাত্র বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ কাঁধের চোটে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। সেই চোট তিনি ওই বছরের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে খেলেছিলেন। আর এবারের আসরে তিনি খেলতে যাচ্ছেন ফিটনেস সমস্যার মধ্যে দিয়ে। এপ্রিলের শেষ দিকে হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়ে তার অ্যানফিল্ড বিদয় সংক্ষিপ্ত হয়ে যায়।
এদিকে ইরান টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে। তবে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার তাদের প্রচেষ্টার প্রস্তুতি অনেকটাই ছাপিয়ে গেছে এক প্রশ্নে- তাদের আদৌ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড ওএফসি বাছাইপর্বের ফাইনালে নিউ ক্যালেডোনিয়াকে ৩-০ গোলে হারিযয়ে গ্রীষ্মে তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে।