শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশের ক্রিকেট কাঠামো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনার রূপরেখা দিলেন তামিম ইকবাল।
আজ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড়দের উন্নতি, অবকাঠামো, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং খেলাটির বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে বিস্তারিত জানান তামিম।
মিরপুরের সাধারণ গ্যালারিতে দর্শকদের জন্য প্রায় ২৭ হাজার বর্গফুট জুড়ে একটি ছাউনি স্থাপনের ব্যবস্থা করার বিষয়ে তামিম বলেন, ‘আমাদের স্টেডিয়ামে, বিশেষ করে স্কোরবোর্ডের কাছের অংশের কোন ছায়া নেই। প্রতিটি ম্যাচে সেখানে সবচেয়ে বেশি দর্শক হয়ে থাকে এবং তারা গরমের মধ্যে প্রচন্ড কষ্ট পায় । আমরা প্রায় ২৭ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে একটি ছাউনি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
স্টেডিয়ামের ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমাধানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পরিকল্পনার কথাও জানান তামিম। তবে এক্ষেত্রে আর্থিক বিষয়টি বিবেচনার জন্য প্রস্তাবটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।
এছাড়া সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাঠামোগত বিষয়টি হলো- ইংল্যান্ডের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের মডেলের মত জাতীয় ক্রিকেট লিগেও (এনসিএল) দ্বিতীয় একাদশ থাকবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিভাগে প্রথম একাদশের পাশাপাশি দ্বিতীয় একাদশও থাকবে এবং ম্যাচগুলো হবে তিন দিনের।’
তামিমের মতে, দুই একাদশ থাকলে ১৫০ থেকে ২০০ জন অতিরিক্ত খেলোয়াড় খেলার সুযোগ পাবে। এতে শীর্ষ স্তরে খারাপ ফর্মে থাকা খেলোয়াড়রা দ্বিতীয় স্তরে ফর্ম ফিরে পেতে সুবিধা হবে। পাশাপাশি ফর্মে থাকা খেলোয়াড়রা উপরের স্তরে উঠে আসতে পারবে।
তামিম বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরেই নিচের বিভাগের খেলোয়াড়দের উপরের বিভাগে যাবার কোন পথ ছিল না। এ ব্যবস্থা সমস্যার সমাধান করবে।’
ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দিতে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় হোম-অ্যাওয়ে ফরম্যাট পুনরায় চালু করা হবে। খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহীর মত আঞ্চলিক ভেন্যুগুলোতে ক্রিকেট ম্যাচ ফিরবে। তবে শর্ত হলো সেখানকার সুযোগ-সুবিধা মানসম্মত হতে হবে।
তামিম বলেন, ‘ঢাকার বাইরের ক্রিকেটপ্রেমিরা নিজেদের স্টেডিয়ামে খেলার দেখার সুযোগ পাবে।’
তৃণমূল স্তরের উন্নয়ন প্রসারের জন্য বসুন্ধরা ক্রিকেটার্স একাডেমি, বিকেএসপি এবং ইউল্যাবের মতো বেসরকারি ক্রিকেট একাডেমিগুলোর সাথে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানান বিসিবি সভাপতি।
তিনি বলেন, ‘এই সম্মিলিত পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভিত্তি মজবুত করবে এবং খেলাটির জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।’