বাসস
  ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:২৮

নয় গোলের রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালে বায়ার্নকে হারাল পিএসজি

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : কাভিচা কাভারাতসখেলিয়া ও ওসমানে ডেম্বেলের জোড়া গোলে পিএসজি মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বায়ার্ন মিউনিখকে ৫-৪ ব্যবধানে পরাজিত করেছে। এই অসাধারণ ম্যাচটি প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের ম্যাচ।

ম্যাচটির প্রথমার্ধ থেকেই ছিল গোলের বন্যা। হ্যারি কেন পেনাল্টি থেকে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন, তবে কাভারাতসখেলিয়া দ্রুত সমতা ফেরান। এরপর হুয়াও নেভেসের হেডে পার্ক ডি প্রিন্সেসে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

মাইকেল ওলিসে গোল করে স্কোর ২-২ করেন, কিন্তু প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে ডেম্বেলের পেনাল্টিতে আবার এগিয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি।

দ্বিতীয়ার্ধে কাভারাতসখেলিয়া ও ডেম্বেলে আবার গোল করে পিএসজিকে অনেকটা এগিয়ে নিলেও, ডায়ো উপামেকানো একটি গোল শোধ দেন এবং শেষে লুইস দিয়াজ গোল করে ব্যবধান কমিয়ে ৫-৪ করেন।

এই অবিস্মরণীয় ম্যাচটি গত মৌসুমের ইন্টার মিলান বনাম বার্সেলোনার মধ্যকার সেমিফাইনালের রোমাঞ্চকেও ছাড়িয়ে গেছে। দুই দলের এই ধরনের লড়াই পরের বুধবার আলিয়াঁজ এরেনায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় লেগের ম্যাচটিকেও উত্তেজনাপূর্ণ কওে তুলেছে। 

পিএসজি অধিনায়ক মারকুইনহোস বলেন, “যে ফুটবল ভালোবাসে, সে এই ম্যাচ উপভোগ করেছে। এমন ম্যাচে খেলতে পারা আমাদের শৈশবের স্বপ্ন।”

পিএসজি এখন মিউনিখে যাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে। যদিও বায়ার্ন নিজেদের মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। বায়ার্নের ইংলিশ তারকা হ্যারি কেন বলেন, “আমরা লড়াই করেছি এবং ম্যাচে ফিরে এসেছি। নয়টি গোল হলেও রক্ষণে অনেক ভালো মুহূর্ত ছিল।”

ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা আধুনিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ যুগে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জেতা দ্বিতীয় দল হতে চায়। আর জার্মান চ্যাম্পিয়নরা ২০২০ সালের পর প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠতে চায়।

ভিনসেন্ট কোম্পানির দল এই ম্যাচে আসার আগে এবারের মৌসুমে ১৬৭ গোল করেছিল। যেখানে হ্যারি কেন একাই ৪৫ ম্যাচে করেছেন ৫৩ গোল।

রিয়াাল মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের জয়ের পর এই ম্যাচ নিয়ে প্রত্যাশা ছিল অনেক, যা পূরণ করেছে দুই দলই তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে। ১৭ মিনিটে উইলিয়ান পাচোর ফাউলে পেনাল্টি পায় বায়ার্ন। স্পট কিক থেকে কেন গোল করেন।

তবে তাদের আক্রমণাত্মক খেলায় কাউন্টার অ্যাটাকের সুযোগ পায় পিএসজি। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি  সময়ে কাভারাতসখেলিয়া বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে দারুণ শটে গোল করেন। ৩৩ মিনিটে ডেম্বেলের কর্নার থেকে নেভেস হেডে গোল করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন। এরপর ওলিসে দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডেম্বেলের ক্রস আলফনসো ডেভিসের হাতে লাগলে ভিএরআর দেখে পেনাল্টি দেওয়া হয়। ডেম্বেলে গোল করে স্কোর ৩-২ করেন।

দ্বিতীয়ার্ধে আশরাফ হাকিমির পাস থেকে কাভারাতসখেলিয়া গোল করে ব্যবধান বায়ার্ন, যা ছিল নকআউট পর্বে তার টানা সপ্তম গোল।

এরপর ডেম্বেলে আবার গোল করে স্কোরলাইন ৫-২ করেন। তবে বায়ার্ন হাল ছাড়েনি। কিমিচের ফ্রি-কিক থেকে উপামেকানো হেডে গোল করেন। শেষে দিয়াজ ড্রিবল করে গোল করে ব্যবধান কমান। নিষেধাজ্ঞার কারণে গ্যালারিতে বসে থাকা কোম্পানি তার দলের লড়াই দেখে সন্তুষ্ট ছিলেন, যদিও শেষ দিকে পিএসজির সেনি মায়ুলুর শট ক্রসবারে লেগে ফেরত আসায় কিছুটা স্বস্তি পায় বায়ার্ন।