শিরোনাম

ঢাকা, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : ওসমানে ডেম্বেলের জোড়া গোলে মঙ্গলবার অ্যানফিল্ডে লিভারপুলকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে পিএসজি। দুই লেগ মিলিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয়।
ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের দুর্ভাগ্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে হুগো একিটিকের গুরুতর চোট। এই ইনজুরিতে তার মৌসুম শেষ হবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতইসাথে তার এই চোট আগামী মৌসুমে লিভারপুলের ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে ফেরার সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আর্নে স্লটের দল প্রিমিয়ার লিগে বর্তমানে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। কোনো ট্রফি ছাড়াই মৌসুম শেষ করাও ইতোমধ্যেই নিশ্চিত হয়ে গেছে।
এদিকে পিএসজি তাদের সেরাটা না খেলেও টানা তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
এই পরাজয়ের ফলে মার্সিসাইডে নয়টি স্মরণীয় বছর কাটানো মোহাম্মদ সালাহর বিদায়টা আর স্মরণীয় হয়ে থাকলো না।
লিভারপুলের জার্সিতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ম্যাচে তাকে মূল একাদশের বাইরে রেখেছিলেন স্লট।
একিটিকের ইনজুরিতে ৩১ মিনিটে সালাহ মাঠে নামার সুযোগ পান। ডিসেম্বরে পা ভাঙার পর প্রথমবারের মতো দলে ফিরে প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড় আলেকজান্ডার ইসাককে আক্রমনভাগে খেলানো হয়।
তবে ম্যাচের মাত্র আধা ঘণ্টার মাথায় একিটিকের গুরুতর চোটের কারণে সালাহকে নামতে হয়।
ইনজুরির কারনে একিটিকের ফ্রান্সের হয়ে বিশ^কাপে খেলাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সাবেক পিএসজি স্ট্রাইকার ডান পায়ের নিচের অংশ ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে তার অ্যাকিলিস টেন্ডন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
সালাহ নামার পরই প্রভাব ফেলতে পারতেন। তার ক্রস থেকে মিলোস কেরকেজের শট দুর্দান্তভাবে ঠেকান মাতভেই সাফোনভ। এরপর মারকুইনহোস অসাধারণ ব্লক করে ভার্জিল ফন ডাইককে হতাশ করেন। গত সপ্তাহে পার্ক ডি প্রিন্সেসে পিএসজির অনেক সুযোগ ছিল ম্যাচে বড় লিড নেবার। কিন্তু ঐ ম্যাচের মতই কালকেও ম্যাচেও প্রথমার্ধে আবারও তারা বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট করে।
ম্যাচ শুরুর আগে স্লট জানিয়েছিলেন, ম্যাচ অনুশীলনের অভাবে ইসাক মাত্র ৪৫ মিনিট খেলতে পারবেন। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে তাকে তুলে নিয়ে কোডি গাকপোকে নামানো হয়, যা লিভারপুলের আক্রমণভাগকে আরও দুর্বল করে।
মিলোস কেরকেজের সামনে সুযোগ ছিল ম্যাচে উত্তেজনা ফেরানোর, কিন্তু সালাহর আরও একটি ভালো পাস থেকে তিনি সুযোগ নষ্ট করেন। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে উইলিয়ান পাচোর সামান্য স্পর্শে পেনাল্টি দেওয়া হলে লিভারপুল কিছুটা হলেও আশা ফিরে পায়। কিন্তু ভিএআর রেফারির সিদ্ধান্তকে বাতিল করে দেয়।
লিভারপুল মরিয়া হয়ে আক্রমণে উঠলে পিএসজির দ্রুত পাল্টা আক্রমণের সামনে তারা অসহায় হয়ে পড়ে। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১৮ মিনিট আগে ডেম্বেলে বাম পায়ের জোড়ালো শটে ম্যাচের ফল নিশ্চিত করেন। এরপর অতিরিক্ত সময়ে ব্র্যাডলি বারকোলার ক্রস থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে শেষ আঘাত হানেন এই ফরাসি তারকা।