বাসস
  ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫৮

দাপুটে পিএসজির কাছে লিভারপুলের হার

ঢাকা, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (ঢাকা) : ডিজায়ার ডুয়ে ও কাভিচা কাভারাটসখেলিয়ার গোলে দাপুটে পারফরম্যান্সে পিএসজি বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে লিভারপুলকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে। যা তারা আগামী সপ্তাহে এ্যানফিল্ডে ফিরতি লেগে কাজে লাগাতে প্রস্তুত।

ম্যাচের ১১তম মিনিটে ডুয়ের শট রায়ান গ্রাভেনবার্খের পায়ে লেগে গোলরক্ষক জর্জি মামারডাশভিলির মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়ায়। এরপর ৬৫তম মিনিটে কাভারটসখেলিয়া গোলরক্ষককে কাটিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল পিএসজির হাতে।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি দ্বিতীয়ার্ধে একটি পেনাল্টিও পেয়েছিল, তবে ভিএআর রিভিউর পর সেটি বাতিল হয়ে যায়। 

লিভারপুলের কৌশল তাদের আরেকটি বড় পরাজয় ঠেকাতে পারেনি। পাঁচ দিনের মধ্যে এটি তাদের দ্বিতীয় বড় হার, যদিও গত সপ্তাহে এফএ কাপে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ৪-০ ব্যবধানে হারার মতো খারাপ ছিল না। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ছয় ম্যাচে মাত্র একটি জয় পেয়েছে লিভারপুল। এবারের মৌসুমে এটি তাদের ১৬তম হার।

কোচ আর্নে স্লট বলেন, “ম্যাচের বড় অংশে আমরা টিকে থাকার লড়াই করেছি। এই দলের বিপক্ষে খেলা খুবই কঠিন। পিএসজি ভালো দল, তবে আমরা হাল ছাড়িনি, তাই এখনও সুযোগ আছে।”

শেষ ষোলোতে গ্যালাতাসারের বিপক্ষে প্রথম লেগে ১-০ হারের পর ফিরতি লেগে ৪-০ ব্যবধানে জিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল লিভারপুল। এবারও তেমন কিছুর প্রত্যাশায় তাদের দ্বিতীয় লেগের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে।

তবে কাজটি আরও কঠিন হবে। কারণ পরের ম্যাচটি হবে মার্সিসাইডে, যেখানে গত মৌসুমে পিএসজি ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল এবং পরে টাইব্রেকারে জিতে শিরোপার পথে এগিয়ে যায়।

গতবার এ্যালিসন বেকারের দুর্দান্ত সেভ লিভারপুলকে জয় এনে দিলেও, এই ম্যাচে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন এবং তার জায়গায় খেলেন মামারডাশভিলি।

মোহাম্মদ সালাহকেও এই ম্যাচে শুরুর একাদশে রাখা হয়নি। আলেকজান্ডার ইসাকের সঙ্গে তিনি বদলী বেঞ্চে ছিলেন। ডিসেম্বর মাসে পায়ে চোট পাওয়ার পর ইসাক দলে ফিরেছেন।

লিভারপুলের আক্রমণে ছিলেন সাবেক পিএসজি ফরোয়ার্ড হুগো একিটিকে। তবে কিলিয়ান এমবাপ্পে, লিওনেল মেসি ও নেইমারের ছায়া থেকে তিনি বের হতে পারেননি। জো গোমেজ, ইব্রাহিমা কোনাটে ও ভার্জিল ফন ডাইকসহ তিন সেন্টার-ব্যাক নিয়ে লিভারপুল খেললেও, পুরো ম্যাচে তাদের বলের পেছনে দৌড়াতে হয়েছে।

পিএসজি শুরু থেকেই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে এবং প্রথমার্ধে ৭০ শতাংশ বলের দখল রাখে। লিভারপুলের একমাত্র প্রচেষ্টা আসে জেরেমি ফ্রিম্পংয়ের কাছ থেকে, যদিও সেটি অফসাইড ছিল।

দ্বিতীয়ার্ধেও চিত্র বদলায়নি। ওসমানে ডেম্বেলে একটি সুযোগ নষ্ট করার পর দ্বিতীয় গোলটি আসে। হুয়াও নেভেসের দুর্দান্ত পাসে থেকে কাভারাটসখেলিয়া ব্যবধান দ্বিগুন করেন।

ম্যাচে ফিরে আসার লক্ষ্যে শেষদিকে স্লট একসঙ্গে চারজন খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন, যার মধ্যে ইসাক ছিলেন, তবে সালাহকে মাঠে নামাননি। শেষ মুহূর্তে ডেম্বেলের শট পোস্টে লাগলে পিএসজির ব্যবধান বাড়েনি। 

২০২৫ সালের শুরু থেকে প্রিমিয়ার লিগ দলের বিপক্ষে এটি তাদের নবম জয়।