শিরোনাম

ঢাকা, ৯ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : জুলিয়ান আলভারেজ ও আলেকজান্ডার সোরলোথের গোলে বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের উত্তেজনাপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ১০ জনের বার্সেলোনাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।
ক্যাম্প ন্যুতে অল-স্প্যানিশ এই লড়াইয়ে লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু পও কুবার্সি এ্যাথলেটিকোর জিউলিয়ানো সিমিওনেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়।
ফ্রি-কিক থেকে আলভারেজ গোল করেন এবং ম্যাচের শেষের ২০ মিনিট আগে সোরলোথ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন, যা এ্যাথলেটিকোকে সেমিফাইনালে ওঠার বড় সুযোগ উপহার দেয়।
দিয়েগো সিমিওনের দল এখনও পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় জিততে পারেনি। তারা ২০১৪ ও ২০১৬ সালের ফাইনালে উঠলেও দুইবারই চির প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে যায়।
গত মৌসুমের সেমিফাইনালিস্ট বার্সেলোনাকে ২০১৫ সালের পর প্রথমবারের মত শিরোপা জয়ের আশা ধরে রাখতে হলে এখন আগামী মঙ্গলবার মাদ্রিদে বিশাল প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নিতে হবে।
ম্যাচ শেষে বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক ভিএআরের ব্যবহারে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কুবার্সির লাল কার্ডের জন্য ভিএআর ব্যবহার করা হলেও, দ্বিতীয়ার্ধে এ্যাথলেটিকোর মার্ক পুবিলের সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের ঘটনা পর্যালোচনা না করায় তিনি ক্ষুব্ধ হন।
তিনি বলেন, “ভিএআর আজ এ্যাথলেটিকোর জন্য খুবই মনোযোগী ছিল, এটা পরিষ্কার লাল কার্ড, আর সেটাই ম্যাচের চিত্র পুরো বদলে দিয়েছে।”
মার্চে কোপা দেল রে সেমিফাইনালেও এ্যাথলেটিকো বার্সাকে হারিয়েছি। গত দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি ছিল দুই দলের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ।
বার্সেলোনা ম্যাচের শুরুটা ভালো করেছিল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ধারে আসা মার্কাস রাশফোর্ড বাম দিক দিয়ে আক্রমণে সবচেয়ে বড় হুমকি ছিলেন। ডানদিকে এ্যাথলেটিকো তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে সামলাতে বেশী ব্যস্ত ছিল। যে কারনে রাশফোর্ড অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলার সুযোগ পান। রাশফোর্ড প্রথম দিকে কয়েকটি সুযোগ পেলেও গোলরক্ষক হুয়ান মুসো তাকে ভালভাবেই প্রতিরোধ করেছেন। অন্যদিকে সম্প্রতি বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার গুঞ্জন থাকা আলভারেজও গোলের চেষ্টা করেন।
রাশফোর্ডের একটি ভলি অল্পের জন্য বাইরে চলে যায় এবং পরে একটি শট জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। দানি ওলমো, পেদ্রি ও ইয়ামালের ওপর একাধিক ফাউল করেও এ্যাথলেটিকোর অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কোক শুধু হলুদ কার্ড পাওয়ায় বার্সা সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বার্সার হাতে থাকলেও কুবার্সির ভুলেই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ১৯ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার গোলমুখে এগিয়ে যাওয়া সিমিওনেকে পিছন থেকে ফাউল করেন। রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও ভিএআর দেখে সেটি লাল কার্ডে পরিবর্তন করেন।
এরপরই আলভারেজ দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে গোল করেন। ১০ জন নিয়ে খেলেও বার্সা লড়াই চালিয়ে যায় এবং রাশফোর্ডের মাধ্যমে সুযোগ তৈরি করতে থাকে। ইয়ামালের পাসে রাশফোর্ড গোলের সুযোগ পেলেও মুসোকে কাটিয়ে বল জালে জড়াতে পারেননি।
খেলার ধারার বিপরীতে গিয়ে এ্যাথলেটিকো দ্বিতীয় গোলটি পায়। আঁতোয়ান গ্রিজমান ও মাত্তেও রুগেইরির সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে সোরলোথ বল জালে পাঠান।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ক্যাম্প ন্যু পুনরায় খোলার পর প্রথমবার ঘরের মাঠে হারের স্বাদ পেল বার্সেলোনা। আর সিমিওনে তার ১৪ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে প্রথমবার এই মাঠে জয় পেলেন। ২০০৬ সালের পর এটি ছিল ক্যাম্প ন্যুতে এ্যাথলেটিকোর প্রথম জয় যা তাদের বহুল প্রতিক্ষিত শিরোপার পথে বড় একটি পদক্ষেপ হতে পারে।