বাসস
  ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬:৪৯

বিশ্বকাপে ফেরার লড়াইয়ে ‘এভারেস্ট’ জয়ের আশা ইতালির

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ৩০ মার্চ ২০২৬ (বাসস) : বিশ্বকাপে ফেরার পথে ইতালির সামনে এখন শেষ বাধা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। মঙ্গলবার জেনিৎসায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্লে-অফ ফাইনালে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে আজ্জুরিরা।

গত সপ্তাহে সেমিফাইনালে উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় ইতালির সমর্থকদের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর করতে পারেনি। সান্দ্রো টোনালি ও মোয়েস কিনের গোল একটি নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সকে বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করে।

কোচ জেন্নারো গাত্তুসো জেনিৎসার এই ম্যাচটিকে “এভারেস্ট” বলে উল্লেখ করেছেন। কারণ ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপে ফেরানোর চাপ তার কাঁধে ভর করছে।

ইতালির জন্য পুরস্কার হলো এই গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘বি’-তে জায়গা করে নেওয়া। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে সহ-আয়োজক কানাডা, সুইজারল্যান্ড ও কাতার। ২০০৬ সালে শেষবার বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে পিছিয়ে পড়া ইতালির জন্য এটি বড় সুযোগ।

গাত্তুসো বলেন, সম্ভাব্য বৃষ্টিভেজা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের বিলিনো পোয়ে স্টেডিয়ামে তিনি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তিত নন, বরং ফলাফলই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বসনিয়ার সেমিফাইনাল জয়ের পর ইতালির খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ফুল-ব্যাক ফেডেরিকো ডিমার্কোকে ক্যামেরায় দেখা যায়, কার্ডিফে ওয়েলসের বিপক্ষে বসনিয়ার জয়সূচক পেনাল্টির সময় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে। 

১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী ইতালির সাবেক গোলরক্ষক দিনো গফও সমালোচনা করে বলেন এমন আচরণ প্রতিপক্ষকে আরও উজ্জীবিত করবে।

রোববার ডিমার্কো এই বিতর্কের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেন। ইন্টার মিলানের এই তারকা বলেন, “আমি বসনিয়া বা তাদের জনগণের প্রতি অসম্মান দেখাইনি। অনেকে বলছে আমরা অহংকারী। কিন্তু তার কোনো কারণ নেই- আমরা তো গত দুই বিশ্বকাপে খেলতেই পারিনি।”

এই ছোট ঘটনাকে ঘিরে এত আলোচনাই ম্যাচটিকে ঘিরে উত্তেজনার প্রতিফলন। ইতালীয় গণমাধ্যম এমনকি রেফারি ক্লেমেন্ট তুরপাঁর নিয়োগকেও অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে। কারণ তিনি ২০২২ বিশ্বকাপে উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে ইতালির পরাজয়ের ম্যাচে কোচের দায়িত্বে ছিলেন।

তবে কুসংস্কারের চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রতিপক্ষ ও তাদের সমর্থকদের চাপ।

বসনিয়ার অধিনায়ক এডিন জেকো ৪০ বছর বয়সেও তার দক্ষতা দেখিয়েছেন। ইতালির রোমা ও ইন্টার মিলানে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে।

তার সঙ্গে খেলতে পারেন ১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড কেরিম আলাজবেগোভিচ, যিনি সামার ট্রান্সফারে বায়ার লেভারকুসেনে যোগ দেবেন। সেমিফাইনালে জেকোর গোলটি তিনিই এ্যাসিস্ট করেছিলেন।

জেকো বলেন, “ইতালির বিপক্ষে কে ফেভারিট বলা কঠিন। আমরা ঘরের মাঠে খেললেও তারা অবশ্যই ফেভারিট। এটা শুধু আমার জন্য নয়, নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্যও অনেক বড় কিছু হবে। দলে অনেক গুণসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে এবং তাদের ক্যারিয়ারের জন্যও এটি অসাধারণ হবে। আশা করি আমরা তা অর্জন করতে পারব।”