বাসস
  ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৩:১৮
আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৩:৪৭

ইতালির লক্ষ্য বিশ্বকাপে ফেরা, সুইডেন চায় কোয়ালিফিকেশন নিশ্চিত করতে

ঢাকা, ২৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ২০০৬ সালে ফ্যাবিও ক্যানাভারো যখন বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন, তখন খুব কম মানুষই কল্পনা করতে পেরেছিল যে পরবর্তী দুই দশকে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরটি ইতালিকে এত কষ্ট দেবে।

২০১০ সালে ইতালি একটি ম্যাচও জিততে পারেনি এবং লজ্জাজনকভাবে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়। ২০১৪ সালেও তারা নকআউট পর্বে পৌঁছাতে পারেনি। তারকা স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ ইতালির ডিফেন্ডার গিওর্গিও চিয়েলিনিকে কামড় দিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এই ঘটনার পরপরই উরুগুয়ে এক গোল করে ইতালিকে বিদায় উপহার দেয়।

আর ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপতো ইতালির জন্য আরো হতাশাজনক। পরপর দুই আসরে ইউরোপীয়ান প্লে-অফ থেকে বিদায় নিয়ে অংশগ্রহণই করতে পারেনি আজ্জুরিরা। যা ফুটবলপ্রেমী এই জাতির জন্য ছিল চরম অপমানজনক।

এই সপ্তাহে আবারও প্লে-অফ ম্যাচকে সামনে রেখে দেশটি যে চরম উদ্বেগে রয়েছে তা সহজেই অনুমেয়।

ইতালি আবারও বিশ্বকাপ প্লে-অফে ফিরে এসেছে। ইউরোপের ১৬টি দল এই প্লে-অফে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য এবারের টুর্নামেন্টের জন্য বাকি থাকা চারটি ইউরোপীয় স্থানের জন্য লড়াই চলছে।

বিশ্বকাপ এবার প্রথমবারের মত ৪৮টি দল অংশ নেবে, যার মধ্যে ইউরোপ থেকে ১৬টি। তবুও চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে এখনো প্লে-অফের পথ ধরেই মূল আসরে উঠতে হচ্ছে, যা তাদের মর্যাদার সাথে যায়না।

বৃহস্পতিবার রাতে ইউরোপ জুড়ে অনুষ্ঠিত প্লে-অফ সেমিফাইনালে ইতালির প্রতিপক্ষ উত্তর আয়ারল্যান্ড। বারগামোতে সেই ম্যাচ জিততে পারলে তাদের পরবর্তী ম্যাচে ওয়েলস অথবা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে হারাতে হবে বিশ্বকাপে ওঠার জন্য।

প্লে-অফের সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিয় নিঃসন্দেহে ইতালি, তবে আরও কিছু বিষয় নজরে রাখার মতো-

সুইডেন ও পটারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় :

এটি সুইডিশ কোচ গ্র্যাহাম পটারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। সাবে চেলসি ও ওয়েস্ট হ্যাম কোচ পটারকে গত বছর সুইডেন দলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, মূলত একটি লক্ষ্য নিযয়ে- দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়া।

এই লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি, তবে তিনি ইতিমধ্যে এতটাই ভালো কাজ করেছেন যে গত সপ্তাহে তার সাথে সুইডিশ ফুটবল ফেডারেশন ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছে।

প্লে-অফের আগে এটি পটারের প্রতি বড় আস্থা প্রকাশ। সুইডেনের প্রতিপক্ষ যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। ম্যাচটি স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। বিজয়ী দল পরবর্তী রাউন্ডে পোল্যান্ড অথবা আলবেনিয়ার মুখোমুখি হবে।

তবে পটারের জন্য দুঃসংবাদ হলো, তার দলের সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়কে এই ম্যাচে পাওয়া যাচ্ছে ন।

ইনজুরির কারনে দলের বাইরে রয়েছেন আলেক্সান্দার ইসাক ও ডিয়ান কুলুসেভস্কি।

লিওয়ানডস্কির শেষ সুযোগ :

ফুটবলের তারকাদের ক্যারিয়ার নিয়ে আগে থেকে কিছু বলা অনেক সময় ভুল প্রমানিত হয়। যেমন পর্তুগীজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো এখনও ৪১ বছর বয়সে বিশ্বকাপে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এটি নিশ্চিত করে বলাই যায় এটি হয়তো পোলিশ তারকা রবার্ট লিওয়ানদস্কির সামনে শেষ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ।

কোচ মিশেল প্রবিয়ার্জ অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার পর ৩৭ বছর বয়সী বার্সেলোনা স্ট্রাইকার গত বছর কিছু সময়ের জন্য জাতীয় দল থেকে দূরে ছিলেন। পরে কোচ পদত্যাগ করলে নতুন কোচ ইয়ান আরবানের অধীনে তিনি দলে ফিরে আসেন।

লেভা আবারও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড ফিরে পেয়েছেন। সম্প্রতি বাম চোখের কোটরে চোট পাওয়ার কারণে তিনি ম্যাচে সুরক্ষামূলক মাস্ক পরে খেলছেন।

কসোভোর ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন :

কসোভো এখন বিশ্বকাপে খেলার মাত্র দুই ম্যাচ দূরে রয়েছে। যা তাদের জন্য অবিশ্বাস্য অগ্রগতি। কারণ ১০ বছর আগেও তারা আন্তর্জাতিক ফুটবল পরিবারের অংশ ছিল না।

২০১৬ সালের মে মাসে কসোভো ও জিব্রাল্টারকে ফিফার সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর ফলে বিদেশে বসবাসকারী কসোভো বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়রা জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান।

তৃতীয় চেষ্টাতেই কসোভো বিশ্বকাপে খেলার খুব কাছে পৌঁছে গেছে। জার্মান কোচ ফ্র্যাঙ্কো ফোডার অধীনে তারা স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে প্লে-অফ সেমিফাইনালে খেলবে।

স্লোভাকিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেই কয়েকটি দেশের একটি, যারা কসোভোকে স্বীকৃতি দেয়নি। স্পেনও তাদের মধ্যে রয়েছে।