শিরোনাম

ঢাকা, ২৩ মার্চ ২০২৬ (বাসস) : গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগার বড় ভুলের সুযোগ নিয়ে লিগ কাপের শিরোপা জয় করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। নিকো ও’রেইলির জোড়া গোলে ওয়েম্বলির ফাইনালে আর্সেনালকে ২-০ ব্যবধানে হারায় তারা।
আর্সেনালের গোলরক্ষক কেপার জন্য লিগ কাপ বরাবরই দুঃস্বপ্নের মতো, আর এই ফাইনালেও তার ভুলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধে রায়ান চেরকির ক্রস হাত ফসকে গেলে ও’রেইলি সহজেই সিটিকে এগিয়ে দেন। মাত্র চার মিনিট পর আবার গোল করে সিটির নবম লিগ কাপ নিশ্চিত করেন তিনি।
এই জয়ের মাধ্যমে কোচ পেপ গার্দিওলা রেকর্ড পঞ্চম লিগ কাপ শিরোপা জিতলেন।
আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ডেভিড রায়ার বদলে কেপাকে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেন, যা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহভাবে ভুল প্রমাণিত হয়। কেপার লিগ কাপ ইতিহাসও হতাশাজনক। ২০১৯ সালের ফাইনালে খেলতে গিয়ে বদলি হতে অস্বীকৃতি জানান এবং টাইব্রেকারে একটি শটও ঠেকাতে পারেননি। ২০২২ সালের ফাইনালে লিভারপুলের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করেন।
২০২০ সালের এফএ কাপের পর প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় আর্সেনালের জন্য এটি বড় ধাক্কা। এর মাধ্যমে তাদের ঐতিহাসিক কোয়াড্রাপল জয়ের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেছে।
তবে মৌসুম এখনও শেষ হয়নি। ২০০৪ সালের পর প্রথম লিগ শিরোপা জয়ের দৌড়ে গানার্সরা ভালভাবেই এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া এফএ কাপ কোয়ার্টার ফাইনালে সাউদাম্পটন এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে স্পোর্টিং লিসবনের মুখোমুখি হবে আর্তেতার দল।
অন্যদিকে গত মৌসুমে কোনো ট্রফি না জেতা এবং এবারের প্রিমিয়ার লিগে পিছিয়ে পড়া সিটির জন্য এই জয় ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকদিন আগেই তারা রিয়ার মাদ্রিদের কাছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছে।
গার্দিওলা এখনও নিশ্চিত করেননি তিনি আগামী মৌসুমে সিটিতে থাকবেন কি না। তবে তার উচ্ছ্বসিত উদযাপনই প্রমাণ করে ক্লাবটির প্রতি তার আবেগ এখনো অটুট।
প্রথমার্ধে সিটির হয়ে গোলপোস্টে ছিলেন জেমস ট্র্যাফোর্ড। যিনি নিয়মিত গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোরনারুমার বদলে মূল একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন। শুরুতেই দারুণ তিনটি সেভ করে কোচের আস্থা রাখেন ট্র্যাফোর্ড।
কেই হাভার্টজ মার্টিন সুবিমেন্দির পাস থেকে বড় সুযোগ পেলেও ট্র্যাফোর্ড তা ঠেকিয়ে দেন। পরে ফিরতি বলে বুকায়ো সাকার দুটি প্রচেষ্টাও তিনি প্রতিহত করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে সিটি পুরোপুরি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয়। রদ্রির লম্বা পাস থেকে আক্রমণ শুরু হয়ে বার্নার্ডো সিলভার থেকে বল চেরকির কাছে গেলে সেখান থেকেই আসে প্রথম গোলের সুযোগ। চেরকি নিজেই শট না নিয়ে বাড়িয়ে দেন ও’রেইলির দিকে। ও’রেইলি প্রথম সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান।
এরপর ম্যাথিউস নুনেসের নিখুঁত ক্রস থেকে দ্বিতীয় গোলটি করেন ও’রেইলি। শেষ বাঁশি বাজতেই গার্দিওলা উচ্ছ্বাসে টাচলাইনে দৌড়ে যান এবং সিটির ট্রফি খরা কাটার আনন্দ উদযাপন করেন।