বাসস
  ২০ মার্চ ২০২৬, ১৬:৩৬

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর কাছে ইংলিশ দলগুলোর শিক্ষা

ঢাকা, ২০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) :  ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে ইংল্যান্ডের দলগুলোর জন্য এটি ছিল হতাশাজনক এক সপ্তাহ। ছয়টি দলের মধ্যে চারটিই বিদায় নিয়েছে এবং দুই লেগ মিলিয়ে তারা মোট ২৮ গোল হজম করেছে।

শুধুমাত্র আর্সেনাল ও লিভারপুল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পেরেছে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি, নিউক্যাসল ও টটেনহ্যাম বিদায় নিয়েছে।

তবে এর মানে এই নয় যে প্রিমিয়ার লিগের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। ইংল্যান্ডের এই লিগটি ইউরোপের সবচেয়ে ধনী লিগ, যেখানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আয় অন্যান্য লিগগুলোর তুলনায় অনেক বেশি।

গত মাসে উয়েফার এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের ক্লাবগুলোর টেলিভিশন স্বত্ত বাবদ আয় ১.৫ বিলিয়ন ইউরো বেড়েছে, যা ইউরোপের বাকি অংশের সম্মিলিত বৃদ্ধির কাছাকাছি। বিশ্লেক সংস্থা ডেলোয়িটের সর্বশেষ ‘ফুটবল মানি লিগ’-এ শীর্ষ ৩০ ধনী ক্লাবের মধ্যে ১৫টিই ইংলিশ ক্লাব।

তবে বাস্তবতা হলো, শেষ ষোলোতে বাদ পড়া চারটি ইংলিশ দলের মধ্যে তিনটি হেরেছে তাদের চেয়ে বশি আয় করা ক্লাবের কাছে। টটেনহ্যাম ব্যতিক্রম হলেও তাদের মৌসুম খুবই খারাপ যাচ্ছে। যে কারনে এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ৭-৫ ব্যবধানে হারাটা অপ্রত্যাশিত নয়।

ম্যানচেস্টার সিটি ১৫ বারের ইউরোপীয়ান কাপ জয়ী রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরেছে ৫-১ ব্যবধানে। রিয়াল মাদ্রিদ ইউরোপের একমাত্র ক্লাব যাদের আয় এক বিলিয়ন ইউরোর বেশি।

চেলসি ৮-২ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির কাছে, আর নিউক্যাসল ৮-৩ ব্যবধানে হেরেছে বার্সেলোনার কাছে।

১৯৫৫ সালের পর থেকে মাত্র তিনবার এমন হয়েছে যে কোনও ইংলিশ দল ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় দুই লেগ মিলিয়ে অন্তত ৮ গোল হজম করেছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনাই ঘটেছে এই সপ্তাহে।

ইংলিশ লিগের শক্তি তাদের গভীরতায়, যা শেষ ষোলোতে রেকর্ড ছয়টি দল থাকার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। তবে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে কিছু বড় ক্লাব রয়েছে যারা নিজেদের ঘরোয়া লিগে তুলনামূলক কম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হলেও আর্থিকভাবে অনেক এগিয়ে।

গত বছর ইউরোপের সর্বোচ্চ আয়কারী চারটি ক্লাব ছিল রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ ও পিএসজি।

স্পেনে গত ২১টি লিগ শিরোপার মধ্যে ১৯টিই জিতেছে রিয়াল বা বার্সেলোনা। এই দুই ক্লাব মিলে জয় করেছে ১০টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা।

পিএসজি গত ১৩টির মধ্যে ১১টি ফরাসি লিগ জিতেছে এবং গত বছর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করেছে।

অন্যদিকে বায়ার্ন মিউনিখ গত ১৪ বছরে ১৩টি বুন্দেসলিগা শিরোপা জয়ের পথে রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তারা নিয়মিত কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে।