বাসস
  ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৭:০৭

অ্যালেনের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঁদিয়ে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ৫ মাচর্, ২০২৬ (বাসস) : ওপেনার ফিন অ্যালেনের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয়বারের মত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল নিউজিল্যান্ড। 

গতরাতে বিশ্বকাপের দশম আসরের প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরির করে বিশ্বকাপে দ্রুততম শতকের বিশ্ব রেকর্ড গড়েন অ্যালেন। ১০টি চার ও ৮টি ছক্কায় ৩৩ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। 

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ও সুপার এইট পর্ব মিলিয়ে টানা সাত ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠে মুখ থুবড়ে পড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি লড়াইয়ে ষষ্ঠ ম্যাচে এসে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারল প্রোটিয়ারা। 

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড পেসার কোলে ম্যাকোঞ্চির তোপের মুখে পড়ে ১২ রানে ২ উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। কুইন্টন ডি কক ১০ ও রায়ান রিকেল্টন শূন্যতে ম্যাকোঞ্চির শিকার হন। 

তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক আইডেন মার্করামকে নিয়ে ৩৫ বলে ৪৩ ও চতুর্থ উইকেটে ডেভিড মিলারের সাথে ১৪ বলে ২২ রান তুলে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। মার্করাম ১৮, মিলার ৬ ও ব্রেভিস ৩৪ রানে আউট হলে ৭৭ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়ে আবারও চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।

তবে ষষ্ঠ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন ট্রিস্টান স্টাবস ও মার্কো জানসেন। ষষ্ঠ উইকেটে দু’জনের ৪৮ বলে ৭৩ রানের দুর্দান্ত জুটিতে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৯ রানের লড়াকু সংগ্রহ পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

স্টাবস ২৯ রানে থামলেও ইনিংসের শেষ পর্যন্ত খেলেছেন জানসেন। ২টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৩০ বলে ৫৫ রান করেন তিনি। 

বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ডের হেনরি-ম্যাকোঞ্চি ও রাচিন রবীন্দ্র ২টি করে উইকেট নেন। 

১৭০ রান তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করে নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লেতে ৮৪ ও অষ্টম ওভারে শতরান রান পূর্ণ করেন কিউই দুই ওপেনার টিম সেইফার্ট ও অ্যালেন। 

দশম ওভারের প্রথম বলে দলীয় ১১৭ রোনে সেইফার্টকে শিকার করে নিউজিল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদা। ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৩৩ বলে ৫৮ রান করেন সেইফার্ট। 

সেইফার্ট যখন ফিরেন তখন অন্যপ্রান্তে ২২ বলে ৫৮ রানে অপরাজিত ছিলেন অ্যালেন। এরমধ্যে ১৯ বলে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে এবারের বিশ্বকাপে দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড গড়েন তিনি। 

নতুন ব্যাটার রবীন্দ্রকে নিয়েও দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের উপর চার-ছক্কার ঝড় বইয়ে দেন অ্যালেন। পরের ৫০ রান করতে মাত্র ১৪ বল খেলেন তিনি। 

১২ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান ছিল ১ উইকেটে ১৪৯। তখন জয় থেকে মাত্র ২১ রান দূরে ছিল কিউইরা। আর সেঞ্চুরি থেকে ২৪ রান দূরে দাঁড়িয়ে অ্যালেন। 

পেসার জানসেনের করা ১৩তম ওভারের প্রথম দুই বলে ২টি করে চার ও পরের দুই ডেলিভারিতে ২টি করে ছক্কা মেরে ২০ রান তুলে স্কোর সমান করেন অ্যালেন। 

এ অবস্থায় নিউজিল্যান্ড জয় থেকে ১ রান দূরে এবং অ্যালেনের সেঞ্চুরির জন্য দরকার ৪ রান। ওভারের পঞ্চম বলে মিড অফের উপর দিয়ে চার মেরে নিউজিল্যান্ডের জয় ও টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অ্যালেন। ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্বকাপে এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যেও যৌথভাবে দ্রুততম শতকের মালিক হন তিনি। ২০২৪ সালে নাইরোবিতে গাম্বিয়ার বিপক্ষে ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা। 

৩০৩.০৩ স্ট্রাইক রেটে রান তুলে ১০টি চার ও ৮টি ছক্কায় ৩৩ বলে অপরাজিত ১০০ রান করেন ডান-হাতি ব্যাটার অ্যালেন। ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন রবীন্দ্র। ম্যাচ সেরা হন অ্যালেন। 

আগামী ৮ মার্চ আহমেদাবাদে ফাইনাল খেলতে নামবে একবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড। আজ মুম্বাইয়ে ভারত-ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের বিপক্ষে ফাইনাল খেলবে কিউইরা।