বাসস
  ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭:১৪

রাজনৈতিক অস্থিরতার ছায়ায় শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ১০০ দিনের কাউন্টডাউন

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের ১০০ দিনের কাউন্টডাউন । যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান হামলা, মেক্সিকোতে সহিংসতার পাশাপাশি নানা ধরনের উদ্বেগ মিলিয়ে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির আবহ কিছুটা হলেও অস্থির হয়ে উঠেছে।

২০২২ সালে ৩২ দলের বদলে এবার রেকর্ড ৪৮টি দল অংশ নেবে। প্রথমবারের মতো তিন দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে।

১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজটেকায় উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। প্রায় ছয় সপ্তাহ পর ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের বাইরে ৮২,৫০০ আসনবিশিষ্ট মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল দিয়ে আসরের পর্দা নামবে।
মোট ১০৪টি ম্যাচ ১৬টি ভেন্যুতে ও চারটি টাইম জোনে অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ৭৮টি ম্যাচ হবে যুক্তরাষ্ট্রে। ফিফা সভাপাতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবারের বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক সাফল্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। তার আশা, টুর্নামেন্ট থেকে রেকর্ড ১১ বিলিয়ন ডলার আয় হবে- যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ৭ বিলিয়ন ডলার আয়কে ছাড়িয়ে যাবে। তিনি এই আসরের ব্যাপ্তিকে “১০৪টি সুপার বোলের সমান” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তবে টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে সমর্থক সংগঠনগুলো সমালোচনা করেছে। ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ ফিফার বিরুদ্ধে বিরাট বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলেছে। সমালোচনার জবাবে ফিফা সীমিত সংখ্যক ৬০ ডলারের টিকিট বরাদ্দ করেছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটই হতে পারে এই টুর্নামেন্টের বড় চ্যালেঞ্জ। সহ-আয়োজক কানাডা ও মেক্সিকোতে গ্রিনল্যান্ড সংযুক্তিকরণ নিয়ে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা এবং কঠোর অভিবাসন নীতি বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে ছায়া ফেলেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলে ইরান হামলা নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। ইরান তাদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচ খেলবে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা নীতির আওতায় পড়েছে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনকারী চার দেশ- ইরান, হাইতি, সেনেগাল ও আইভরি কোস্ট। যদিও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, টিকিটধারী দর্শকদের ক্ষেত্রে পর্যটক ভিসায় সমস্যা হবে না।

মেক্সিকোতেও সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে কুখ্যাত মাদক সম্রাট নিহত হওয়ার পর সহিংসতা ছড়ায়। মেক্সিকোর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গুয়াডালাজারায় বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই শহরেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তবে ইনফান্তিনো ও মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিয়েনবম আশ্বাস দিয়েছেন, বিশ্বকাপ আয়োজনে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।

মাঠের লড়াইয়েও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ৪৮ দলের নতুন ফরম্যাটে প্রথম রাউন্ড তুলনামূলক কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। ১২টি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দল নকআউট পর্বে উঠবে। ফলে বড় দলগুলোর শুরুতেই বিদায়ের সম্ভাবনা কম।

সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার দিকে। দলীয় অধিনায়ক লিওনেল মেসি আগামী ২৪ জুন ৩৯ বছরে পা দেবেন। এটি তার ষষ্ঠ এবং সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ।

২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন হবে আর্জেন্টিনার প্রধান চ্যালেঞ্জ।

জার্মান কোচ থমাস টাচেলের অধীনে ইংল্যান্ড ৬০ বছরের শিরোপাখরা কাটাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলবে কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান ও উজবেকিস্তানের মতো কয়েকটি দল, যা টুর্নামেন্টে নতুন মাত্রা যোগ করবে।