শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : পাকিস্তানী তারকা পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি গতকাল ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের সেঞ্চুরিকে “বিশ্বমানের ইনিংস” বলে প্রশংসা করেছেন। এই ইনিংসেই ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে এবং পাকিস্তানকে এমন অবস্থায় ফেলেছে যে শেষ চারে ওঠার ভাগ্য এখন আর তাদের নিজেদের হাতে নেই।
ব্রুক ৫০ বলে চারটি ছক্কা ও ১০টি চার মেরে টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। পাকিস্তানের ছুঁড়ে দেয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্য ইংল্যান্ড পাঁচ বল বাকি থাকতে স্পর্শ করে।
আফ্রিদি শুরুতেই তিন উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার কাঁপিয়ে দেন। কিন্তু অধিনায়কের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে ব্রুক দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান।
ম্যাচ শেষে আফ্রিদি সাংবাদিকদের বলেন, “আমার মতে, এটি হবে তার জীবনের সেরা ইনিংস। উইকেটে ব্যাট করা সহজ ছিল না, কিন্তু সে ম্যাচটা আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে।”
সকালে ইংল্যান্ড কোচ ব্রেন্ডান ম্যাককালামের সঙ্গে আলোচনার পর তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন ব্রুক। ইনিংসের প্রথম বলেই আফ্রিদি ফিল সল্টকে আউট করেন। এরপর জস বাটলার ও জ্যাকব বেথেলকে ফিরিয়ে দিয়ে ইংল্যান্ডকে পাওয়ার প্লে’তেই বিপদে ফেলেন। এসময় ইংল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৫ রান।
ব্রুক একপ্রান্ত আগলে ধরে অবিচল ছিলেন। তিনি পঞ্চম উইকেটে স্যাম কারানের ৪৫ রান এবং ষষ্ঠ উইকেটে উইল জ্যাকসের সাথে ৫২ রান যোগ করেন।
তার সেঞ্চুরিটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম এবং কোনো দলের অধিনায়ক হিসেবে প্রথম। কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিস গেইল ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৭ বলে সেঞ্চুরি করে এর চেয়ে দ্রুত তিন অঙ্কে পৌঁছেছিলেন।
৯০ থেকে ১০০ রানে পৌঁছাতে ব্রুক মাত্র দুই বল খরচ করেন। একটি ছক্কা ও একটি চার হাঁকিয়ে ‘নার্ভাস নাইন্টিজ’ পার হন। ব্যাট তুলে উদযাপন করার পরের বলেই আফ্রিদির ইয়র্কারে তিনি বোল্ড হন। তবে আফ্রিদি কোন উদযাপন না করে সঙ্গে সঙ্গে ব্রুককে অভিনন্দন জানাতে এগিয়ে যান।
আফ্রিদি বলেন, “ব্রুক নিখুঁত ক্রিকেটীয় শট খেলেছে এবং সে করমর্দনের যোগ্য ছিল। তাই আমি গিয়ে তার সঙ্গে হাত মেলাই।”
সুপার এইটে দুই ম্যাচে পাকিস্তানের সংগ্রহ মাত্র এক পয়েন্ট। ফলে সেমিফাইনালে উঠতে হলে তাদের শনিবার শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে হবে এবং অন্য ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে যেতে প্রার্থনা করতে হবে।
আফ্রিদি স্বীকার করেন, “আমরা জানি ভাগ্য এখন আমাদের হাতে নেই। কিন্তু শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে হবে এবং তারপর অন্য ফল আমাদের পক্ষে যাওয়ার আশা করতে হবে। এটি আদর্শ পরিস্থিতি নয়, কিন্তু বাস্তবতা এমনই।”