বাসস
  ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৩

বিশ্বকাপে থ্রো-ইন ও গোলকিকে পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : এবারের গ্রীষ্মে ফিফা বিশ্বকাপে থ্রো-ইন ও গোলকিকের সময় পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ফুটবলের আইন প্রণেতারা। একইসাথে খেলার গতি বাড়াতে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

চলতি মৌসুমে আট সেকেন্ডের নিয়ম (যেখানে গোলরক্ষক নির্ধারিত সময়ে বল ছাড়তে ব্যর্থ হলে কর্নার দিতে হয়) সফল হওয়ায় আন্তর্জাতিক ফুটবল এসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) ম্যাচের গতি নষ্ট করার অন্যান্য কৌশল নিয়েও পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত হয়েছে।

শনিবার ওয়েলসে আইএফএবির বার্ষিক সাধারণ সভায় একাধিক আইন পরিবর্তনের অনুমোদন দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রেফারিদের ক্ষমতা দেওয়া হবে, যদি তারা মনে করেন কোনো খেলোয়াড় থ্রো-ইন বা স্থির অবস্থান থেকে নেওয়া গোলকিকে অযথা সময় নিচ্ছেন, তবে পাঁচ সেকেন্ডের কাউন্টডাউন শুরু করতে পারবেন।

এক্ষেত্রে রেফারি প্রথমে বাঁশি বাজিয়ে সংকেত দেবেন, এরপর হাতের ইশারায় পাঁচ সেকেন্ড গণনা শুরু করবেন। থ্রো-ইনে পাঁচ সেকেন্ডের বেশি সময় নিলে সেটি প্রতিপক্ষের দখলে যাবে, আর গোলকিক ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত হলে কর্নার দেওয়া হবে।

শনিবার অনুমোদিত পরিবর্তনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে। তবে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে প্রতিযোগিতায় এগুলো প্রয়োগ করা হতে পারে।

আইএফএবি বদলির ক্ষেত্রেও ১০ সেকেন্ডের সময়সীমা বিবেচনা করছে। নির্ধারিত সময়ের বেশি নিলে দলটি ওই বদলি খেলোয়াড়কে নামাতে পারবে না এবং অন্তত এক মিনিট একজন কম নিয়ে খেলতে হবে।

চোটের কারণে খেলা বন্ধ হলে খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরে থাকার জন্য সর্বোচ্চ এক মিনিট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ভিন্ন ভিন্ন সময়সীমা ছিল, যেমন প্রিমিয়ার লিগে ৩০ সেকেন্ড, আর মেজর সকার লিগে প্রথমে তিন মিনিট। আইএফএবি এবার একটি নিয়ম চালু করতে চায়।

এই সব ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো খেলার গতি বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত সময় কমানো, যা খেলোয়াড়দের সুস্থতা, সমর্থক ও সম্প্রচারকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

গোলরক্ষকদের চোট আপাতত এই নিয়মের বাইরে থাকবে। তবে ভবিষ্যতে এমন পরীক্ষা হতে পারে, যেখানে গোলরক্ষকের চোটে খেলা বন্ধ হলে একজন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে সাময়িকভাবে মাঠ ছাড়তে হবে। কিছু ক্ষেত্রে দলগুলো গোলরক্ষক-সংক্রান্ত নিয়মকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে খেলার গতি কমাচ্ছে বলে উদ্বেগ রয়েছে।

আসন্ন বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কিছু নতুন ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) পরিবর্তনও দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে কর্নার সিদ্ধান্ত দ্রুত যাচাই করার সুযোগ থাকবে, যাতে খেলা বিলম্বিত না হয়। কর্নার দ্রুত নেওয়া হলে এবং ভিএআর যাচাই শেষ না হলে খেলা চলতেই থাকবে, পেছনে ডাকা হবে না।

এছাড়া দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ড হলে তা যাচাই করার সুযোগ থাকবে এবং ভুল হলে রেফারিকে পর্যালোচনার পরামর্শ দেওয়া যাবে। ভুল দলকে কার্ড দেওয়া হলেও ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে।

সাবেক আর্সেনাল ম্যানেজার আর্সেন ওয়েঙ্গারের প্রস্তাবিত ‘ডেলাইট’ অফসাইড নিয়মের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ আপাতত কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে হচ্ছে না। আইএফএবি এই নিয়মের চলমান সীমিত পরীক্ষা এবং আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের শরীরের অংশ দ্বিতীয় শেষ ডিফেন্ডারের চেয়ে সামনে থাকলে অফসাইড গণ্য হবে কি না, এমন সংশোধিত প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করবে।