বাসস
  ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৫

আত্মবিশ্বাস ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে নামছে ইতালি

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো শীর্ষ টুর্নামেন্ট- টি২০ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ায় গত গ্রীষ্মে বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়েছিল ইতালি। তবে ইউরোপের মূল ভূখন্ডে ক্রিকেট নিয়মিত অনুসরণকারীদের কাছে এই সাফল্য মোটেও অপ্রত্যাশিত ছিল না। প্রায় পাঁচ বছর আগে শুরু হওয়া একটি প্রকল্পেরই চূড়ান্ত ফল এটি, যার নেতৃত্বে ছিলেন কাউন্টি ক্রিকেটের অভিজ্ঞ গ্যারেথ বার্গ।

স্থানীয় ছোট কিন্তু নিবেদিতপ্রাণ ক্রিকেট কাঠামোর সঙ্গে ইতালিয়ান প্রবাসী ক্রিকেটারদের প্রতিভা একত্র করার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

তবে বার্গ নিজে বিশ্বকাপের মঞ্চে দলকে নিয়ে যেতে পারেননি। ২০২৩ সালের ইউরোপীয় আঞ্চলিক বাছাইপর্বে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের পেছনে রানার্সআপ হয়ে অল্পের জন্য ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি সরে দাঁড়ান। এরপর ইতালি হারিয়েছে আরেক রূপকারকে- নতুন অধিনায়ক জো বার্নসকেও। ঘরের মাঠে সাব-রিজিওনাল বাছাইপর্বে অপরাজিতভাবে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে এবং পরে নেদারল্যান্ডসে আঞ্চলিক ফাইনালে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করা বার্নস টুর্নামেন্টের আগেই দল থেকে বিদায় নেন।

তবু বার্গ ও বার্নসের রেখে যাওয়া ভিত্তি যে শক্ত ছিল তার প্রমাণ মিলেছে। অভিজ্ঞ ওয়েন ম্যাডসেন অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রস্তুতি সিরিজের শেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে ইতালির প্রথম জয় এনে দেন। পরবর্তীতে নামিবিয়া ও কানাডার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের জয়গুলো দেখিয়ে দিয়েছে, বার্গের শুরু করা উদ্যোগ ইতালিকে সত্যিকারের ছোট সংষ্করনে প্রতিদ্বন্দ্বীতে পরিণত করেছে।

স্কোয়াড এবং এর তাৎপর্য :

ওয়েন ম্যাডসেন (অধিনায়ক), অ্যান্থনি মোসকা, জাস্টিন মোসকা, জেজে স্মাটস, বেন মানেন্তি, হ্যারি মানেন্তি, মার্কাস ক্যাম্পোপিয়ানো, জিয়ান পিয়েরো মিয়েদে (উইকেটরক্ষক), গ্রান্ট স্টুয়ার্ট, ক্রিশান কালুগামাগে, থমাস ড্রাকা, জাইন আলি, আলি হাসান, সৈয়দ নকভি, জসপ্রীত সিং।

অধিনায়কের বিদায় এবং সম্ভাব্য নতুন মুখদের নিয়ে নানা জল্পনা থাকা সত্ত্বেও, বড় টুর্নামেন্টে অভিষেকের আগে ইতালির দল নির্বাচনে পরিবর্তনের চেয়ে ধারাবাহিকতাই বেশি দেখা গেছে। ব্যাটিং লাইনআপের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন মোসকা ও মানেন্তি ভাইরা; তাদের সঙ্গে ম্যাডসেন, মার্কাস ক্যাম্পোপিয়ানো ও উইকেটরক্ষক জিয়ান-পিয়েরো মিয়েদে ব্যাটিংকে পূর্ণতা দিয়েছেন। বার্নসের বিদায় ও এমিলিও গের হ্যামস্ট্রিং চোটে ছিটকে যাওয়া সত্ত্বেও ব্যাটিং রোস্টারটি বেশ সমৃদ্ধ।

দীর্ঘদিনের ভরসা গ্রান্ট স্টুয়ার্ট মূলত স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ১৫ জনের দলে একমাত্র নতুন নাম অলরাউন্ডার জেজে স্মাটস, দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সাবেক বাঁহাতি স্পিনার, যিনি স্পিন বিভাগে একটি বড় ঘাটতি পূরণ করেছেন। বেন মানেন্তির অফস্পিন ও ক্রিশান কালুগামাগের লেগস্পিন বিকল্প থাকলেও, ধীরগতির বোলিংয়ে দলটি এখনো কিছুটা দুর্বল বলেই মনে হয়।

বিশ্বকাপে ওঠার যাত্রা :

বিশ্বকাপে পৌঁছানোর পথে সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রা ছিল ইতালির। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তারা ছিল একমাত্র দল যারা বাছাইয়ের একেবারে নিচের ধাপ থেকে উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ঘরের মাঠে সাব-রিজিওনাল বাছাইপর্বে তারা ছিল অপরাজিত এবং প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে। পরের গ্রীষ্মে আঞ্চলিক ফাইনালে চ্যালেঞ্জ কিছুটা কঠিন হলেও, গার্নসিকে স্বাচ্ছন্দ্যে হারানো এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের সুবাদে তারা নেট রান রেটে জার্সিকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে।

দুবাইয়ে দীর্ঘ প্রস্তুতি ক্যাম্পের শেষটা হয় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে।

সর্বশেষ পাঁচ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ফল : হার-জয়-হার-হার-জয়

খেলার ধরন :

জন ডেভিসন, কেভিন ও’ব্রায়েন, ডাগি ব্রাউন ও মাইকেল দি ভেনুটোর মতো তারকাবহুল কোচিং স্টাফের সঙ্গে মানানসইভাবেই ইতালির লাইনআপ ব্যাটিং নির্ভর। বার্নস ও গে না থাকলেও ব্যাটিং নিঃসন্দেহে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। শীর্ষ ছয়ে রয়েছে লিস্ট ‘এ’ ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের বিপুল অভিজ্ঞতা। এমনকি নিচের দিকে গ্রান্ট স্টুয়ার্টও সাম্প্রতিক সময়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখিয়েছেন।

তবে বোলিং নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ২০২১ সালের পর থেকে তারা ১৫০-এর কম রান কোনো ম্যাচেই রক্ষা করতে পারেনি। স্মাটসের অন্তর্ভুক্তি এই দুর্বলতা কিছুটা কাটাতে পারে। বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে তিনি ভালোই পারফর্ম করেছেন। বেন মানেন্তির অভিজ্ঞতা থাকলেও উপমহাদেশের কন্ডিশন তার জন্য যেমন নতুন, তেমনি পুরো দলের জন্যই।

সূচি :

চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিই ইতালি খেলবে ইডেন গার্ডেন্সে। তবে প্রথম দুই ম্যাচে তারা কিছুটা পিছিয়ে থাকবে। স্কটল্যান্ড ইতোমধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেই কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা পাবে, আর নেপাল মুম্বাইয়ে একটি ম্যাচ খেলে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। এই দুটি ম্যাচই আজ্জুরিরা টার্গেট করবে, যাতে শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চাপটা প্রতিপক্ষের ওপর থাকে।

তারিখ        প্রতিপক্ষ            ভেন্যু
৯ ফেব্রুয়ারি    স্কটল্যান্ড            ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা
১২ ফেব্রুয়ারি    নেপাল            ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম, মুম্বাই
১৬ ফেব্রুয়ারি    ইংল্যান্ড            ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা
১৯ ফেব্রুয়ারি    ওয়েস্ট ইন্ডিজ        ইডেন গার্ডেন্স, কলকাতা