শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নেয়াখালী এক্সপ্রেসের আফগান ওপেনার হাসান ইসাখিলের সেঞ্চুরি ম্লান করে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ২৯তম ম্যাচে দুর্দান্ত শতকে রংপুর রাইডার্সকে জেতালেন তাওহিদ হৃদয়। আজ লিগ পর্বে নিজেদের দশম ও শেষ ম্যাচে রংপুর ৮ উইকেটে হারিয়েছে নোয়াখালীকে।
ইসাখিল অপরাজিত ১০৭ এবং হৃদয় ১০৯ রান করেন।
এই জয়ে ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে পিছিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে আছে রংপুর। ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। আজ সন্ধ্যার ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের কাছে চট্টগ্রাম বড় ব্যবধানে হারলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে প্রথম কোয়ালিফাইয়ারে খেলার সুযোগ পাবে রংপুর। নয়তো টেবিলের চতুর্থ স্থানে থাকা সিলেট টাইটান্সের সাথে এলিমিনেটর ম্যাচ খেলতে হবে রংপুরকে।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৩৬ রানে ২ উইকেট হারায় নোয়াখালী। রহমত আলি ৯ ও জাকের আলি ৩ রানে আউট হন।
এরপর তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক হায়দার আলিকে নিয়ে ৭৪ বলে ১৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন ইসাখিল। শেষ ১০ ওভারে ১২৬ রান যোগ করেন তারা। এই জুটির কল্যাণে ২০ ওভারে ২ উইকেটে ১৭৩ রানের সংগ্রহ পায় নোয়াখালী।
ইনিংসের শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৩৩তম ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পান আফগানিস্তানের কিংবদন্তি মোহাম্মদ নবির ছেলে ১৯ বছর বয়সী ইসাখিল।
হাফ-সেঞ্চুরি করতে ৫০ বল খেলেন তিনি। তবে পরের ৫০ রান করতে মাত্র ২০ বল খেলেছেন এই ডান-হাতি ব্যাটার। ৭০ বলে এবারের আসরের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিয়ান হলেন তিনি।
আসরের প্রথম ম্যাচে সিলেটের মাঠে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্ত।
শেষ পর্যন্ত ৪টি চার ও ১১টি ছক্কায় ৭২ বলে অপরাজিত ১০৭ রান করেন ইসাখিল। ১০৭ রানের ইনিংসে বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারি থেকেই ৮২ রান তুলেছেন তিনি। সিলেটের মাঠে বিপিএলে নিজের অভিষেক ইনিংসে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন এই আফগান। ঢাকার বিপক্ষে ৬০ বলে ৯২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন ইসাখিল।
৩২ বলে ৪২ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন হায়দার। নাহিদ রানা ও অ্যালিস ইসলাম ১টি করে উইকেট নেন।
জবাবে তাওহিদ হৃদয়ের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ৫৫ রান তুলে রংপুর। এরমধ্যে ২৬ বলে ৪৭ রানই ছিল হৃদয়ের। ২৭ বলে টি-টোয়েন্টিতে ২২তম ও এবারের আসরে চতুর্থ হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান তিনি।
নবম ওভারের প্রথম বলে এবং দলীয় ৭৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় রংপুর। ১৭ বলে ১৫ রান করে সাজঘরে ফিরেন ওপেনার ডেভিড মালান।
এরপর অধিনায়ক লিটন দাসকে নিয়ে ৬২ বলে ৮৭ রানের জুটিতে রংপুরের জয়ের পথ সহজ করেন হৃদয়।
১৭তম ওভারের তৃতীয় বলে ২ রান নিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান হৃদয়। এজন্য ৫৭ বল খেলেছেন তিনি। ২০২৪ সালে মিরপুরে বিপিএলের ২৬তম ম্যাচে দুর্দান্ত ঢাকার বিপক্ষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন হৃদয়। ঐ ম্যাচে ৫৭ বলে অনবদ্য ১০৮ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
দলের জয় থেকে ৯ রান দূরে থাকতে নোয়াখালীর পেসার হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড আউট হন হৃদয়। ১৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬৩ বলে ক্যারিয়ার সেরা ১০৯ রান করেন তিনি।
দলীয় ১৬৫ রানে হৃদয় ফেরার পর খুশদিল শাহকে নিয়ে রংপুরের জয় নিশ্চিত করেন লিটন। ২ চার ও ১ ছক্কায় ৩৫ বলে লিটন ৩৯ ও খুশদিল ৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
নোয়াখালীর হাসান ও জহির ১টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন রংপুরের হৃদয়।
রংপুরের কাছে হেরে এবারের বিপিএল শেষ করল নোয়াখালী। ১০ ম্যাচে ২ জয় ও ৮ হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে পিছিয়ে ছয় দলের টেবিলে তলানিতে আছে তারা। চট্টগ্রামের কাছে ঢাকা বড় ব্যবধানে হারলেই পঞ্চম স্থানে থেকে নিজেদের অভিষেক বিপিএল শেষ করার সুযোগ পাবে নোয়াখালী।