শিরোনাম

॥ আবু মোশাররফ ॥
চট্টগ্রাম, ২০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিন বা ছয় মাস পেরোনোর মধ্যেই চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) সংসদীয় আসন এলাকার উন্নয়নচিত্রে যুক্ত হয়েছে একের পর এক দৃশ্যমান উন্নয়ন।
সড়ক, সেতু-কালভার্ট, খাল খনন ও জলাবদ্ধতা নিরসন থেকে শুরু করে পানি, বিদ্যুৎ ও সেচব্যবস্থা, মসজিদ-মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির-শ্মশানসহ ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোতে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। স্থানীয় জনজীবনের নানা প্রয়োজনকে সামনে রেখে এগিয়েছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।
১৮০ দিনে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা ৪৫০টি প্রকল্পের মধ্যে ৩২৯টির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর বাইরে সরকারি বরাদ্দে নেওয়া ২৭টি প্রকল্পের প্রতিটিই শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আরও ৪৮টি প্রকল্পের কাজ চলমান; যার অর্ধেকের বেশি ইতোমধ্যে এগিয়ে গেছে। এসব প্রকল্পে গড় অগ্রগতি ৬৪ শতাংশ।
এলাকাবাসী বলছেন, সরকারের প্রথম ৬ মাসে একটি সংসদীয় এলাকার মানুষের প্রয়োজন মেটাতে এই চমক দেখিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
এ প্রসঙ্গে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বাসস’কে বলেন, ‘স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রকল্পটিকে দ্রুত বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো এলাকার সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।’
তিনি জানান, ইতোমধ্যে সংসদীয় এলাকার মসজিদ ও ঈদগাহে ৩৮টি, মাদ্রাসা ও হেফজখানায় ২৫টি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। খাল ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া হয়েছে ১৯টি প্রকল্প, সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ করতে নির্মাণ করা হয়েছে ১২টি সেতু ও কালভার্ট। পানি, বিদ্যুৎ ও সেচ খাতের ৪৮টি সরকারি প্রকল্পই শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। একইভাবে ভূমি ও সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে নেওয়া উদ্যোগগুলোও শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ উন্নয়ন উদ্যোগ কেবল প্রতিমন্ত্রীর নিজ সংসদীয় আসনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার উন্নয়নেও ১৮০ দিনের মধ্যে অনেকগুলো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পানি সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য তিনি নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় কাজ করছেন।
হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক জাকের হোসেন বাসস’কে বলেন, ‘হাটহাজারীতে ৬ মাসে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা বিগত ১৭ বছরেও হয়নি। ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় এখানে সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। বিশেষ করে হাটহাজারী বাস স্টেশনে যে যানজট ছিল, সেখানে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের কারণে যানজট এখন নেই বললেই চলে।’
তিনি বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে যে জলাবদ্ধতা হতো, খাল খনন ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার করার কারণে এবার জলাবদ্ধতাও হয়নি। তিনি এখানে ৬০০ বেডের একটি হাসপাতাল করার চেষ্টা করছেন, একই সাথে ক্রীড়া ব্যবস্থার উন্নয়নে মিনি স্টেডিয়াম করারও পরিকল্পনা করছেন । এসব উন্নয়নে এলাকার মানুষজন যথেষ্ট খুশি।
জাকের হোসেন আরও বলেন, ‘তিনি বিগত ২০ বছর ধরে সব সময় হাটহাজারীতে ছিলেন, তিনি জানেন কোথায় কী করতে হবে। তাই দ্রুত এত উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এজন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বাসস’কে বলেন, ‘সময়ের হিসেবে ১৮০ দিন খুবই অল্প, কিন্তু মানুষের প্রতি দায়িত্বের ভার অনেক বেশি। এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমি চেষ্টা করেছি মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতি সৎ ও নিবেদিত থাকতে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, একটি সরকার শুধু প্রতিশ্রুতিতে নয়, কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতিতেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।’
তিনি বলেন, এই ১৮০ দিনে যা করার পরিকল্পনা ছিল, তা বাস্তবায়নের পথেও দৃঢ়ভাবে এগিয়েছি। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণÑ এই চারটি ভিত্তিকে সামনে রেখে কাজ করেছি। প্রতিটি সিদ্ধান্তে ছিল একটি লক্ষ্যÑমানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। আমার নির্বাচনী এলাকা এবং মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ তাদের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া অনুভব করতে পারেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই উন্নয়ন ও অগ্রগতির মহানায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ করছি, মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটছে দ্রুত। এজন্য প্রধানমন্ত্রীরকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’
সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার আলোকে মন্ত্রণালয়ের নানা প্রকল্পের ওপর আলোকপাত করে তিনি জানান, সরকারের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গৃহীত সব কার্যক্রম ধাপে ধাপে সমন্বিত ডাটাবেইসে সংরক্ষণ ও আপডেট করা হবে, যাতে জনগণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ভূমিসেবা অ্যাপ চালু করা হয়েছে। জনগণ অ্যাপ ব্যবহার করে সব ভূমিসেবা পাচ্ছেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে করা যাচ্ছে- ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, নামজারির ফি জমা, খতিয়ান সংগ্রহ, ডিসিআর প্রতিলিপি সংগ্রহ, খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ, মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ, খতিয়ান অনুসন্ধান ও যাচাইসহ সব ধরনের সেবা মিলছে। একই সাথে হেল্পলাইন নাম্বার ১৬১২২ এর মাধ্যমেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
সেইসঙ্গে, হাটহাজারী-রাঙামাটি মহাসড়ক এখন সৌরবিদ্যুৎ চালিত স্মার্ট স্ট্রিট লাইটের আলোয় আরও নিরাপদ, আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছে, তেমনি আলোকিত করেছে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ককে।
হাটহাজারী পৌরসভাকে ব্যাংক বুথ, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সহজ সেবাপ্রাপ্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ও নাগরিকবান্ধব করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় হাটহাজারী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভার ওয়ার্ড, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, উপজেলা ও পৌরসভা প্রশাসনের মাধ্যমে ৩ লাখ ৬২ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটির আসামবস্তি এলাকায় বৃহৎ শ্মশান ঘাটে মৃতদেহ সৎকারের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলীর দুর্গম কুক্যাছড়ি খিয়াং পাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হাটহাজারী উপজেলার সরকারহাট বাজার সংলগ্ন মির্জাপুর মৌজার সরকারি আনুমানিক ১ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ৩ শতক সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। আল মুহসিনাত বালিকা হিফজখানার ছাত্রীদের গরম ও লোডশেডিংয়ের কষ্ট লাঘবে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চলমান কিছু প্রকল্পের কাজের মধ্যে রয়েছে- মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বিলে কৃষকদের সেচ প্রকল্প পাইপলাইন নির্মাণকাজ, ১৪ নম্বর শিকারপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বাথুয়া গ্রামে আসাদ আলী রোড থেকে নেয়ামত আলী রোড পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যক্রম, পশ্চিম চারিয়া কাজী পাড়া সন্দ্বীপ কলোনি অন্তর্গত আনিস খাল সংলগ্ন রাস্তা মেরামত, মেখল ইউনিয়ন এর হারিয়াননালা খাল খনন কর্মসূচি।
এছাড়াও রয়েছে হাটহাজারীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বউ বাজার থেকে দশতলা পর্যন্ত নালা পরিষ্কার কার্যক্রম, ফটিকা কামাল পাড়া থেকে সেন বাড়ি হয়ে দশতলার পেছনে নালা পরিষ্কার ও খাল খনন কার্যক্রম, মেখল ৫ নম্বর ওয়ার্ড ফতেহ আলী কাঞ্চন বাড়ির সড়ক মেরামত, চৌধুরীহাট জিসি টু মদুনাঘাট (দাতারাম চৌধুরী সড়ক) সংস্কার কাজ ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় সুন্দরী ছড়া পুনঃখনন, আবদুল গফুর তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও ফতেয়াবাদ-রামদাশহাট-মদুনাঘাট সড়ক মেরামত কাজ।