শিরোনাম

ঢাকা, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : বাজারদর কমিয়ে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে বিদ্যমান স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডভিত্তিক বিতরণ ব্যবস্থার বাইরে খোলাবাজারে নির্বাচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির নতুন পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
এ পরিকল্পনার আওতায় বিদেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে সংগ্রহ করা পণ্য কোনো সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ।
সম্প্রতি তার কার্যালয়ে বাসসকে তিনি বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি উদ্যোগ এবং বর্তমান সরকারের চিন্তা থেকেই এর সূত্রপাত।’
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ভোজ্যতেল দিয়ে এ উদ্যোগের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে। প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের প্রথম চালান সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা তেল দিয়ে শুরু করছি। ডাল কম দামে সংগ্রহ করতে পারলে ডালও বিক্রি করব। চিনি কম দামে সংগ্রহ করতে পারলে চিনিও বিক্রি করব।’
এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের মধ্যে পণ্য বিক্রি সীমাবদ্ধ না রেখে সব ভোক্তার জন্য নির্বাচিত পণ্য কেনার সুযোগ তৈরি করা।
তিনি বলেন, ‘সবাই খোলাবাজারে এসব পণ্য কিনতে পারবেন।’ প্রাথমিকভাবে তিন থেকে চার মাস এ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়ে বাজারে এর প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করা হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়শল বলেন, প্রথম চালানটিকে ‘পাইলট লট’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বাজারে সংগ্রহ করা পণ্য কার্যকরভাবে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে কি না, তার ওপর উদ্যোগটির ধারাবাহিকতা অনেকাংশে নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, ‘পণ্য আনলাম, কিন্তু বিক্রি করতে পারলাম না, তাহলে এটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আর বিক্রি করতে পারলে আমরা উদ্যোগটি এগিয়ে নিতে পারব।’
টিসিবি চেয়ারম্যান স্পষ্ট করে বলেন, খোলাবাজারে প্রস্তাবিত পণ্য বিক্রিতে সরকার কোনো ভর্তুকি দেবে না। বরং প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সংগ্রহ করে তুলনামূলক কম মুনাফায় বিক্রির মাধ্যমে ভোক্তাদের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করবে টিসিবি।
তিনি বলেন, ‘এখানে সরকার কোনো ভর্তুকি দেবে না। যেহেতু আমি কম দামে কিনেছি, তাই কিছুটা কম দামে বিক্রি করব। তবে তা বাজারদরের চেয়ে কম হবে।’
চেয়ারম্যানের মতে, পণ্য ও সংগ্রহমূল্যের ওপর নির্ভর করে প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় প্রতি ইউনিটে প্রায় ১০ থেকে ১২ টাকা কম দামে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হতে পারে।
তিনি বলেন, এ উদ্যোগ মৌসুমভিত্তিক হবে না। বরং প্রাথমিক পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল মূল্যায়ন করে তা সফল হলে কর্মসূচি সম্প্রসারণের কথা বিবেচনা করা হবে।
ভোজ্যতেলের দাম বর্তমানে বেশি এবং বাজারে এর চাহিদাও শক্তিশালী হওয়ায় প্রাথমিকভাবে এ পণ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
‘ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। আমরা তেল দিয়ে শুরু করছি, কারণ এখন তেলের দাম বেশি। আমি যদি কম দামে সংগ্রহ করতে না পারি, তাহলে কম দামে বিক্রিও করতে পারব না,’ তিনি বলেন।
টিসিবি চেয়ারম্যান জানান, পরবর্তী সময়ে চিনি ও ডালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও প্রতিযোগিতামূলক দামে সংগ্রহ করা সম্ভব হলে খোলাবাজারে বিক্রির আওতায় আনা হতে পারে।
তবে টিসিবি সব সময় সব পণ্যের বাজারে হস্তক্ষেপ করবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরবরাহ বা দামের ওপর চাপ তৈরি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পণ্য বাজারে আনা হবে।
প্রস্তাবিত খোলাবাজারে বিক্রয় কার্যক্রম টিসিবির বিদ্যমান ভর্তুকিমূল্যে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির বিকল্প নয়, বরং এর অতিরিক্ত একটি কার্যক্রম হবে।
তিনি বলেন, ‘ভর্তুকির কার্যক্রমটি আলাদা। তবে এটি বাজারদরে হবে, যদিও প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে।’
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফয়সল জানান, টিসিবির বিদ্যমান দায়িত্বের আওতায়ই এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ‘এ কার্যক্রমের জন্য আলাদা কোনো নাম নেই। এটি টিসিবির স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ,’ তিনি বলেন।
তিনি জানান, পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হবে না, কারণ টিসিবির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চলতি বাজেটেই প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
‘আমরা ইতোমধ্যে এ বাজেটে বরাদ্দ রেখেছি। বর্তমানে অতিরিক্ত কোনো বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন নেই,’ তিনি বলেন।
টিসিবি চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন, পরীক্ষামূলক উদ্যোগ সফল হলে পরবর্তীতে আরও বেশি পণ্য এর আওতায় আনা সম্ভব হবে।
‘পাইলট কার্যক্রম সফল হলে এটি সম্প্রসারণ করা হবে,’ তিনি বলেন।
প্রতিযোগিতামূলক দামে খোলাবাজারে টিসিবির উপস্থিতি বাড়ানো গেলে সামগ্রিক বাজারদর কমাতেও তা ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
‘আমরা যদি পণ্য বাজারে দিতে পারি, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই দাম কমতে শুরু করবে,’ তিনি বলেন।
টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নতুন একটি পণ্য সংগ্রহ ও খোলাবাজারে বিক্রয় ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে নির্বাচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কম দামে পৌঁছে দেওয়া। প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে এ ব্যবস্থা পরীক্ষা করে পরে এর সফলতার ভিত্তিতে বৃহত্তর পরিসরে সম্প্রসারণ করা হবে।