বাসস
  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৩
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:১০

কুড়িগ্রামে সারের জোগান নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান কৃষি বিভাগের

 কুড়িগ্রাম, ৮ সেপ্টেম্বর. ২০২৬ (বাসস) : সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত থাকলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ছড়ানো গুজব ও বিভ্রান্তিতে কান দিয়ে কিছু এলাকায় কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে চলতি আমন মৌসুমে কৃষিবান্ধব সরকারের যুগোপযোগী পদক্ষেপে কুড়িগ্রামে সারের পর্যাপ্ত জোগান ও রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।

কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং ফসল উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নির্ধারিত মূল্যেই ডিলারদের মাধ্যমে সার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যেন কোনো ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে নিজ নিজ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার সংগ্রহ না করার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ।

‘রেকর্ড বরাদ্দ ও সুষম সরবরাহ’ :

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার কৃষককূলের সুবিধার্থে বিগত বছরের তুলনায় কুড়িগ্রামে সারের বরাদ্দ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করেছে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে জেলায় ৫,৮৭৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা গত বছরের (৩,২৫৩ মেট্রিক টন) তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। একইভাবে ডিএপি ১,৫৭২ মেট্রিক টন, এমওপি ১,৬৪৮ মেট্রিক টন এবং টিএসপি ৯২৪ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দিয়ে বিতরণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসেও ইউরিয়া ৪,৬৪৪ মেট্রিক টন, ডিএপি ১,৯২১ মেট্রিক টন, টিএসপি ৮০২ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১,৩২৬ মেট্রিক টন বরাদ্দ দিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।

‘বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও মনিটরিং’:

কৃষকদের মাঝে সুষম ও স্বচ্ছ উপায়ে সার পৌঁছাতে প্রতিটি পয়েন্টে ট্যাগ অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি বহাল রাখা হয়েছে। ভূরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী ও রৌমারীসহ জেলাজুড়ে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

গতকাল সোমবার রৌমারী ও ভূরুঙ্গামারীতে বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে কৃষকদের সাময়িক বিলম্বের সুযোগ নিয়ে কিছু উসকানিদাতা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে স্থানীয় প্রশাসন। ভুল বুঝতে পেরে কৃষকরাও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সংগৃহীত সার ফেরত প্রদান করেন।

‘আগাম মজুত না করার আহ্বান’:

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে আমন ধানে সারের প্রয়োগ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী রবি মৌসুমে আলু, ভুট্টা ও শীতকালীন সবজি আবাদকে কেন্দ্র করে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে সরকারের পক্ষ থেকে সারের বরাদ্দ আরও বাড়ানো হবে। কাজেই নদী তীরবর্তী এলাকা বা চরাঞ্চলের কৃষকদের আগাম সার কিনে বাসাবাড়িতে মজুত করার কোনো প্রয়োজন নেই।

‘কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের আশ্বস্তকরণ’ :

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বাসসকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যতেও হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। মাঠপর্যায়ে চাহিদার তুলনায় সারের মজুত বেশি রয়েছে। কৃষকদের প্রতি অনুরোধ, তারা যেন কোনো ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে নিজ নিজ প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার সংগ্রহ না করেন। অসাধু উপায়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।’

সরকারের আন্তরিক পদক্ষেপে সার সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে সরকারের কৃষি সহায়তামূলক কার্যক্রমে আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।