শিরোনাম

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান
খুলনা, ৬ আগস্ট ২০২৬ (বাসস) : জেলার বিল ডাকাতিয়াসহ যশোর-খুলনা অঞ্চলের একটি বড় অংশ বছরের অধিকাংশ সময়ই থাকে জলাবদ্ধ। ফলে এসব এলাকায় গাছের চারা উৎপাদন অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় আশার আলো জাগিয়েছে পলি নেট হাউজ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করে কৃষকরা জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাদের কাছে এ পদ্ধতি ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ব্যক্তি পর্যায়ে জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় গড়ে উঠেছে তিনটি পলি নেট হাউস।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বাসসকে বলেন, মোটা ধরনের পলিথিন দিয়ে ঘর তৈরি করা হয়। যাকে বলা হয় পলি নেট হাউস। এ ঘরের মধ্যেই বিশেষ ধরনের লোহার নেটের ভেতর বিভিন্ন প্রজাতির চারার বীজ আলাদা আলাদা রোপণ করা হয়। একটি হাউজে একসঙ্গে লক্ষাধিক চারা উৎপাদন সম্ভব। বছরে পলিনেট হাউস থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ চারা উৎপাদন করা যায়।
তিনি জানান, ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ও আটলিয়ায় কৃষি দপ্তরের সহযোগিতায় ব্যক্তি পর্যায়ে তিনটি পলি নেট হাউজ গড়ে উঠেছে। এ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন নিরাপদ। বিশেষ করে ঝড় জলোচ্ছ্বাস থেকে চারাকে রক্ষা করা যায়। ফলে মানসম্মত চারা পাওয়া যায়। এ পলি নেট হাউসে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা উৎপাদন করা হয় ।
জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের বরাতিয়া গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা তাপস সরকারের পলি নেট হাউস এখন বিল ডাকাতিয়াসহ যশোর-খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধ এলাকার কৃষকদের কাছে মানসম্মত সবজির চারার একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
তিনি রুদ্রনীল এগ্রি নার্সারির মাধ্যমে চুইঝাল, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মরিচ, বেগুন, টমেটো, ক্যাপসিকামসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির উন্নতমানের চারা উৎপাদন করছেন। ২০১৭ সাল থেকে সবজির চারা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০২১ সালে সরকারি সহযোগিতায় পলি নেট হাউস স্থাপনের মাধ্যমে তার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করেন।
বর্তমানে ডুমুরিয়া, কেশবপুর, নড়াইলসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা মৌসুমভিত্তিক প্রয়োজন অনুযায়ী তার নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করছেন। স্থানীয় কৃষকরা জানান, এখানকার চারা রোপণ করে তারা ভালো ফলন পাচ্ছেন।
পলি নেট হাউজের উদ্যোক্তা তাপস সরকার জানান, সরকারি সহায়তায় পলি নেট হাউস প্রতিষ্ঠার পর উন্নতমানের চারা উৎপাদন সহজ হয়েছে। এ কাজে তাকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন তার স্ত্রী বিজয়া সরকার। পারিবারিকভাবেই তারা কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, ‘কৃষি বিভাগের সহযোগিতা আরও বাড়লে বিল ডাকাতিয়াসহ জলাবদ্ধ এলাকার কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী আরও বেশি পরিমাণে মানসম্মত চারা সরবরাহ করতে পারব।’
স্থানীয় কৃষকদের মতে, এ ধরনের পলি নেট হাউসের সংখ্যা বাড়ানো গেলে জলাবদ্ধ এলাকার কৃষকদের সময়মতো মানসম্মত চারা পাওয়া সহজ হবে। এতে সবজি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। ফলে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ ব্যাপারে কৃষকরা কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।