বাসস
  ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৫:৪২

সরবরাহ বেশি হওয়ায় ‘মজা সুপারির’ বাজারে ধস 

ছবি : বাসস

॥ বিপুল ইসলাম ॥

লালমনিরহাট, ৬ আগস্ট,  ২০২৬ (বাসস) : পানির নিচে বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা ‘মজা সুপারি’ দীর্ঘদিন ধরে লালমনিরহাটের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আয়ের অন্যতম উৎস। তবে এবার মৌসুম শেষে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় সংরক্ষিত এ সুপারির দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালীগঞ্জ, সদর, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। জেলার অন্যতম বড় সুপারির বাজার সদর উপজেলার বড়বাড়ী হাটে প্রতি বুধবার ও শনিবার কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও রাজারহাট, রংপুরের কাউনিয়া ও মিঠাপুকুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, পাইকার ও মহাজনরা সুপারি কেনাবেচা করতে আসেন।

হাট সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এ সময়ে দেশি মজা সুপারি প্রতি পোন (৮০টি) ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় নেমে এসেছে। একইভাবে প্রতি কাউন (১৬ পোন) সুপারির দাম ৪ হাজার ৮০০ থেকে ৯ হাজার ৬০০ টাকার পরিবর্তে এখন ২ হাজার ৪০০ থেকে ৫ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক সাঈদ আলী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার মজা সুপারি বিক্রি করে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। বড়বাড়ী ইউনিয়নের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রায় অর্ধেক দামে সুপারি বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে সংরক্ষণ ও শ্রমিকের খরচই উঠছে না। 

ব্যবসায়ী মোস্তফা হোসেন বলেন, লাভের আশায় মৌসুমের শুরুতে সুপারি কিনে পানির নিচে সংরক্ষণ করেছিলাম। 

কিন্তু বর্তমান বাজার দরে ক্রয়মূল্যই উঠছে না। পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয় যোগ হওয়ায় লোকসান আরও বেড়েছে।

মহাজন ফজলুর রহমান বলেন, সাধারণত মৌসুমের শেষ দিকে সংরক্ষিত সুপারির চাহিদা বাড়ে। কিন্তু এবার বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় সেই চাহিদা তৈরি হয়নি। অপর মহাজন আব্দুল আজিজের মতে, অতিরিক্ত সংরক্ষিত সুপারি একসঙ্গে বাজারে আসায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং দাম কমে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, লালমনিরহাটে গ্রামাঞ্চলের বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় ও নদী তীর জুড়ে প্রচুর সুপারি গাছ রয়েছে। এছাড়া জেলায় ৫১৪ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে সুপারির চাষ হয়। সুপারির দাম মূলত উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারের চাহিদার ওপর নির্ভরশীল।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, মজা সুপারির বর্তমান বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তার কাছে নেই। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য ফিরলে দাম বাড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের মজা সুপারি খাতের সঙ্গে যুক্ত হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ী বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন।