শিরোনাম

॥ বিপুল ইসলাম ॥
লালমনিরহাট, ২৩ জুলাই ২০২৬ (বাসস): একটানা অতিবৃষ্টি ও সাম্প্রতিক বন্যায় সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এতে উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলার মতো লালমনিরহাটেও কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন শাকসবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে বা পচে গেছে ক্ষেতের শাকসবজি। এতে বাজারে এর সরবরাহ কমেছে। পণ্যের ঘাটতির বেড়েছে শাকসবজির দাম। তবে অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এতে ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এদিকে সবজি চাষি ও ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে। সবজির দাম বাড়লেও তা কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে যথেষ্ট নয়।
কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় জেলার বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। ফলে কাঁচামরিচসহ অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে।
আজ সকালে জেলা সদরের বড়বাড়ী ও পৌরসভার গোশালা বাজারের পাইকারি আড়তে প্রতি ধারা (৫ কেজি) কাঁচামরিচ ৮০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। সে হিসেবে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজির দাম দাঁড়ায় ১৬০ টাকা। খুচরা বাজারে একই পণ্য বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৪০ টাকায়।
সেনামৈত্রী হকার্স মার্কেটের খুচরা ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও শাহাবুদ্দিন হক বাসসকে বলেন, বিভিন্ন খরচসহ কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা। তিনি বলেন, বারবার বন্যায় কৃষকদের সবজি ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজির উৎপাদন কমেছে। সরবরাহ সংকটের কারণেই বাজারে দাম বেড়েছে।
বড়বাড়ী সবজি আড়তের পাইকারি ব্যবসায়ী আশরাফুল হক বলেন, অতিবৃষ্টিতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঢাকাসহ বড় বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব লালমনিরহাটের বাজারেও পড়েছে।
গোশালা বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি করতে আসা কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, অতিবৃষ্টিতে অধিকাংশ সবজি নষ্ট হওয়ায় আমরা ক্ষতির মুখে পড়েছি। তবে যারা কিছু ফসল রক্ষা করতে পেরেছেন, তারা বর্তমানে ভালো দাম পাচ্ছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানান।
সেনামৈত্রী হকার্স মার্কেটের ক্রেতা আলমুদ্দিন ও নিজামি রহমান বাসসকে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
জেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, পটল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ছোট করলা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ভেন্ডি ১০০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, চালকুমড়া প্রতি পিস ৫০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ২০ টাকা, লালশাক ৬০ টাকা, কেজি, কচুর লতি ৪০ টাকা, টমেটো ১৮০ টাকা, কেজি, পুঁইশাক ৪০ টাকা, কলমিশাক প্রতি আঁটি ১০ টাকা, তরই ৫০ টাকা, কেজি, কচুরমুখী ৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা, ধনিয়াপাতা প্রতি পোয়া ১০০ টাকা, রসুন ৮০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, কেজি, আদা ২০০ টাকা এবং শুকনা মরিচ প্রতি পোয়া ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে শহর ও গ্রামাঞ্চলের বাজারভেদে দামে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।
জানা যায়, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার বাজারগুলোতেও সবজির দাম প্রায় একই রয়েছে।
বড়বাড়ী সবজি আড়তের ইজারাদার মোশারফ আলী বাসসকে বলেন, বৃষ্টির কারণে আড়তে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজির দাম কমে আসবে বলে আশা করা যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বাসসকে বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। তবে মাঠের পানি নেমে গেলে উৎপাদন ও বাজারে সরবরাহ বাড়বে। এতে কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজির দামও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।