শিরোনাম

॥ আবদুস সালাম আজাদ জুয়েল ॥
চাঁদপুর, ২ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জেলার প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের আমদানি কমেছে। তবে স্থানীয় জেলেদের আহোরিত ইলিশের দাম খুবই চড়া। যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। অনেক ক্রেতা দরদাম করে ইলিশ না কিনেই ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।
এখনও ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা। আর দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশ আমদানি পুরো বন্ধ রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি বাড়লে দাম আরও কমবে। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে ইলিশের আমদানি কমেনি, তবে গড়ে মাছের সাইজ ছোট হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের বড় স্টেশন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
কিছু সময় ঘাটে অবস্থান করে দেখা গেছে, এখন আর সড়ক ও নৌ পথে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইলিশের আমদানি নেই। শুধুমাত্র স্থানীয় পদ্মা-মেঘনার ইলিশ আসছে আড়তে। তাও সংখ্যায় খুবই কম।
সদরের আনন্দ বাজার এলাকার জেলে হাসেম খাঁ বলেন, নদীতে নামার পরে কিছু ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। তবে সংখ্যায় তা খুবই কম। জালে ধরা পড়ে অন্যান্য প্রজাতির মাছ। যা দিয়ে কেনোমতে খরচ উঠাই।
বহরিয়া এলাকার জেলে আজগর ঢালী বলেন, এখন মাত্র বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে, এই সময়ে অন্যান্য বছর ইলিশের আমদানি কিছুটা বেশি ছিল। কিন্তু এ বছর তা অনেকটাই কমেছে। একেবারে ছোট সাইজের ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। জালে ৬শ’ গ্রাম থেকে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বেশি পাওয়া যায়।
ইলিশের বাজার দর জানালেন হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন মাছ ঘাটের আড়ৎদার মো. ইব্রাহীম ও আব্দুল মান্নান।
তারা বলেন, ইলিশের সঙ্গে পাঙ্গাশ মাছ ধরা পড়ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী ইলিশের আমদানি কম। তবে গত বছরের একই মাসের তুলনায় ইলিশের দাম কেজি প্রতি ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা বেড়েছে।
একই ঘাটের আরেক আড়ৎ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর সৈয়াল বলেন, ইলিশের দাম বেশি হওয়ার কারণে অনেক ক্রেতা দরদাম করে চলে যায়। গত বছর এই মাছ ঘাটে ইলিশ আনামাত্রই বিক্রি হয়েছে। অনেক আড়তের ইলিশ এখন শহরে পাঠানো হচ্ছে।
শহরের নতুন বাজার থেকে আসা ক্রেতা আব্দুল বারেক বলেন, মাছ ঘাটে এসে দাম দেখে চলে যেতে হয়। কারণ ১ কেজি ইলিশের দাম দিয়ে ৩ কেজির বেশি গরুর মাংস পাওয়া যায়। চাঁদপুরে থেকেও ইলিশের স্বাদ নিতে পারি না।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবে বরাত সরকার বাসসকে বলেন, আষাঢ় মাসে ইলিশের আমদানি খুবই কম। জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রতিদিন ১ থেকে দেড়শ’ মণ ইলিশ আমদানি হলেও চলতি মাসে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ২০ মণ ইলিশ আড়তে কেনাবেচা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা। ৭ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা এবং ৪শ’ গ্রাম থেকে ৬শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা। তবে আমদানি বাড়লে দামও কমবে।
চাঁদপুর সদরের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বাসসকে বলেন, ইলিশের আমদানি সংখ্যায় কমেনি। জেলেদের জালে যেসব ইলিশ ধরা পড়ছে, তাতে গড় ইলিশের ওজন ও সাইজে ছোট। এই কারণে উৎপাদনের পরিমাণ কিছুটা হ্রাস পাবে। তবে অনেক বেশি নয়।
তিনি আরও বলেন, জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষা করায় ইলিশের উৎপাদন গত কয়েক বছর বেড়েছে। আরও বাড়বে যদি নদীর প্রবাহ ঠিক থাকে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, নদীতে ডুবুচর, ইলিশের খাবার সংকটসহ নানা কারণে এখন পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের বিচরণ কম।