বাসস
  ২৯ জুন ২০২৬, ২৩:২৫

দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় সাময়িক বন্যার আশঙ্কা

ছবি : বাসস

মো. মামুন ইসলাম

রংপুর, ২৯ জুন, ২০২৬ (বাসস): কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় প্রধান নদ-নদীগুলোর পানির সমতল বৃদ্ধি অব্যাহত থেকে তা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিডব্লিউডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ বিকেল ৩টায় কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ফলে সেখানে নিচু প্লাবনভূমি ও কিছু চর এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে, আজ বিকেল ৩টায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার, নীলফামারী জেলার ডালিয়ায় ১৭ সেন্টিমিটার নিচে এবং রংপুর জেলার কাউনিয়া পয়েন্টে ঠিক বিপৎসীমায় প্রবাহিত হচ্ছিল।

গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানির স্তর বেড়েছে এবং আগামী তিন দিন তা আরও বাড়তে পারে ও কিছু কিছু জায়গায় বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

এই সময়ে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নিচু এলাকা ও প্লাবনভূমিতে স্বল্পস্থায়ী বন্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

নীলফামারীর ডালিয়ায় অবস্থিত বিডব্লিউডিবির তিস্তা ব্যারেজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বাসসকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানির স্তর ওঠানামা করেছে।

তিনি বলেন, ‘আজ বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির স্তর বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচে এবং কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছিল। ’

তবে, উজান থেকে নেমে আসা পানির পরিমাণ এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই তিস্তার পানি আবার বিপৎসীমা অতিক্রম করা অথবা বিপৎসীমার নিচে নেমে যাওয়া।

আগের বর্ষা মৌসুমগুলোর মতোই, অতিরিক্ত পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের (টিবিপি) ৪৪টি গেটই এখন খোলা রাখা হচ্ছে, যেখানে নদীর পানির স্তর এখনও ওঠানামা করছে।

বিডব্লিউডিবির রংপুর সার্কেলের সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার মো. আহসান হাবিব রাতে বাসসকে জানান, বর্ষার কারণে উজান থেকে পানির ঢল নামায় তিস্তা ও দুধকুমার নদীর তীরবর্তী প্লাবনভূমি এবং নিচু চর এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমরা গত মৌসুমে তিস্তার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও ভাঙনপ্রবণ ৪২ কিলোমিটার অংশে নদী তীর রক্ষার কাজ করেছি, তাই এবার এখন পর্যন্ত ওই এলাকা থেকে নদীভাঙনের তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

তবে তিনি বলেন, বিডব্লিউডিবি কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জরুরি ভিত্তিতে নদীর যেকোনো পাশের ও অন্যান্য স্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এবং নদী তীর রক্ষায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছেন।

ইঞ্জিনিয়ার হাবিব বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নিচু চরাঞ্চলে অস্থায়ী জলমগ্নতার পরিস্থিতি ওঠানামা করতে পারে এবং আগামী কয়েকদিন বড় ধরনের বন্যার কোনো পূর্বাভাস নেই।’

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আজ এক বুলেটিনে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী এবং উজানে আসাম ও অরুণাচল প্রদেশে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর মতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল প্রদেশ ও মেঘালয় রাজ্যের সংলগ্ন উজান অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে, যার পরে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় মাঝারি-ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হবে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী পাঁচ দিন এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

আগামী তৃতীয় থেকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ এবং টাঙ্গাইল জেলায় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানির স্তর সতর্কীকরণ স্তরে প্রবাহিত হতে পারে এবং সংলগ্ন নিচু এলাকা কিছু কিছু জায়গায় প্লাবিত হতে পারে।

আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় উজানের রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাট পয়েন্টে ২০৩ মিমি এবং আসামের ডিব্রুগড় পয়েন্টে রেকর্ড ১০৫ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

‘একই সময়ে, বাংলাদেশে কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে ১৩৮ মিমি, রংপুরের বদরগঞ্জে ৯৩ মিমি, কুড়িগ্রামে ৮২ মিমি, রংপুরে ৫৫ মিমি এবং রংপুরের কাউনিয়ায় ৫২ মিমি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে’ বলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বুলেটিনে বলা হয়েছে।