বাসস
  ২৭ জুন ২০২৬, ১৬:১৫
আপডেট : ২৭ জুন ২০২৬, ১৮:২২

উপকূলের দুর্গম চরাঞ্চলে শিশুদের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়াবে স্পেশাল টিম

আল-আমিন শাহরিয়ার

ভোলা,২৭ জুন ২০২৬ (বাসস): উপকূলীয় জেলার নদ-নদীর বুকে জেগে ওঠা দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাসরত পরিবারের শিশুদের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়াতে স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে স্পেশাল মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম চরাঞ্চলের শিশুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াবে।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বাসসকে বলেন, উপকূলীয় জেলাগুলোর বিচ্ছিন্ন এসব চরাঞ্চলগুলোর জন্যই এমন সিদ্ধান্ত। এ টিমের সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনুসন্ধান করে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াবেন। একটি শিশুও যেন ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল থেকে বাদ না পড়ে,  সে লক্ষ্যেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মোবাইল টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  

তিনি বলেন, ভোলার সাত উপজেলার ৩০ টি ছোট-বড় চরে ভ্রাম্যমাণ মোবাইল টিম আগামী দুই দিন ধরে কাজ করবে।

সরেজমিন তথ্যানুসন্ধানে ভোলার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল মদনপুরে গিয়ে জানা যায়, তারা ইতোমধ্যেই ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনের খবর পেয়েছেন। এখন অপেক্ষায় আছেন মোবাইল টিম আসার। 

মদনপুর ১ নং ওয়ার্ডের গৃহিণী শাহনাজ বেগম জানান,তার শিশুপুত্র আব্দুল্লাহর বয়স এখন আড়াই বছর। অতিতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সম্পর্কে তার ধারনা ছিলনা। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীদের সচেতনতামূলক প্রচারণায় এখন তার ভুল ভেঙেছে। তিনি বলেন, এবার আমার বাচ্চাকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে ভুল করবোনা। 

আকলিমা ও খাদিজা বেগমের মুখেও সচেতনতার কথা। তারাও সন্তানের মা হয়েছেন বছর দুয়েক আগেই। সচেতনতার অভাবে তারা এতোদিন অন্ধকারে ছিলেন। তবে স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের এখন সচেতন করে তুলেছেন। তাই এবার থেকে তারা আর শিশুদের নিয়ে অবহেলা করবেন না বলে বাসসকে জানান। 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, আগামীকাল রোববার (২৮ জুন) উপকূলীয় জেলা ভোলায় প্রায় ২ লাখ ৯৩ হাজার ১৩৬ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস-ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ উপলক্ষে জেলায় ১ হাজার ৬৮৯টি কেন্দ্রে একযোগে এ ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিটি উপজেলায় আজ শনিবার (২৭ জুন) সকাল থেকেই মাইকিং,লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ করে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। 

এর আগে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১টায় ভোলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

ওই সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২৮ জুন রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার ৭ উপজেলা ও তিনটি প্রশাসনিক থানা এলাকায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এক ডোজ ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কোনো শিশু যেন এই কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সেজন্য জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ৬১৯ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ১০৮ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করবেন।

সিভিল সার্জন ডা.মনিরুল ইসলাম বাসসকে বলেন, শতভাগ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়াতে নির্ধারিত কেন্দ্রগুলো ছাড়াও নদীমাতৃক দুর্গম চরাঞ্চলে বিশেষ মোবাইল টিম কাজ করবে। কোনো পরিবারের সদস্যরা শিশুকে কেন্দ্রে না এনে ক্যাপসুল বাড়িতে নিয়ে খাওয়াতে পারবেন না। 

তিনি জানান, জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিটামিন ‘এ’ সংক্রান্ত এক ভিডিও বার্তা দেওয়া হয়েছে।