বাসস
  ২৪ জুন ২০২৬, ১৩:৩৯
আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ১৪:০৫

বীরগঞ্জে দেশি পটল চাষে সফল কৃষক আব্দুর রহিম

বীরগঞ্জ উপজেলায় কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুর রহিম উন্নত জাতের দেশি পটল চাষ করে সফল হয়েছেন। ছবি: বাসস

॥ রোস্তম আলী মন্ডল ॥ 

দিনাজপুর, ২৪ জুন ২০২৬(বাসস): জেলার বীরগঞ্জ উপজেলায় কৃষি উদ্যোক্তা যুবক কৃষক আব্দুর রহিম উন্নত জাতের দেশি পটল চাষ করে সফল হয়েছেন। তিনি জৈব সার ব্যবহার করে বিষমুক্ত পদ্ধতিতে পটল চাষ করে সফল হন। 

তরুণ উদ্যোক্তা কৃষক আব্দুর রহিম (৩২) দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগডোবা গ্রামের আব্দুর রহমানের পুত্র। 

জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগডোবা গ্রামে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উন্নত জাতের দেশি পটল চাষে সফলতার বাস্তব চিত্র। তিনি ৪৫ শতক জমিতে দেশি জাতের পটল চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত প্রায় এক লক্ষ ৭০ হাজার টাকার পটল বিক্রি করেছেন। দেশি পটল চাষে তার এই সাফল্য এলাকার অন্যান্য কৃষকদের এ ধরনের সবজি চাষে উৎসাহিত করছে।

কৃষক আব্দুর রহিম বাসসকে বলেন, চলতি মৌসুমে তিনি ৪৫ শতক জমিতে দেশি জাতের পটল চাষ করেছেন। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ ও পরিচর্যাসহ পুরো চাষাবাদে তার প্রায় ৫২ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা ও শ্রম দেওয়ার কারণে ভালো ফলন হয়েছে।

তিনি বলেন, পটল ক্ষেতের পরিচর্যায় দুই জন শ্রমিক বারেক আলী ও নিজাম হক নিয়মিত কাজ করেন। তাদের শ্রম ও আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে পটলের ভালো ফলন সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় বাজারে দেশি জাতের পটলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেই সাথে ভালো দাম পাওয়ায় পটল বিক্রি করে উৎপাদন খরচ বাদে তিনি প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা আয় করেছেন।

একই গ্রামের কৃষক মো. হরমুজ আলী জানান, ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় পটল চাষে খরচ কম হয় এবং লাভের সম্ভাবনা বেশি থাকে। এ জন্য অনেক কৃষক এখন গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী, লাভজনক বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বিশেষ করে পটল চাষে সফলতার এ উদাহরণ এই এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

বীরগঞ্জ উপজেলার আদর্শ কৃষক মো. আমজাদ আলী বলেন, বীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা অনুযায়ী দেশি জাতের পটল চাষ ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। এখানকার উৎপাদিত পটল, এখন প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহনে বাইরে থেকে আসা পাইকারেরা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। উৎপাদিত পটলের মান ঠিক রাখতে, কৃষকেরা স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে, পটল চাষ থেকে শুরু করে, উত্তোলন ও বিক্রি পর্যন্ত পরিচর্যা করছেন। ফলে এখান থেকে পাইকারেরা যেসব পটল ক্রয় করে নিয়ে যান সেগুলো গুণগত মানসম্পন্ন।

জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পটল একটি জনপ্রিয় সবজি। সারা বছরই কম-বেশি চাষ হয় এবং বাজারে সব সময় পাওয়া যায়। 

এই অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের নিরাপদ শাক-সবজি আবাদ হয়। যা সারা দেশে শাক-সবজির চাহিদা পূরণ করে থাকে। এখানে দেশি জাতের পটল চাষে সফল হয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক। এসব কৃষকদের মধ্যে অধিকাংশই তরুণ। এসব তরুণ এবারে উন্নত জাতের দেশি পটল চাষ করে এলাকায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। চলতি মৌসুমে বীরগঞ্জ উপজেলায় অনেক চাষি পটল চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন। 

তিনি বলেন, এই বছর বীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে কৃষকেরা পটল চাষ করেছেন। কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপদ সবজি চাষে বিভিন্নভাবে তাদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। 

সবজি চাষে কৃষি উদ্যোক্তা যুবক আব্দুর রহিম, রশিদুল ইসলাম,  মো. হরমুজ আলী, আক্কাস আলী ও পুরস্কার প্রাপ্ত আদর্শ কৃষক মো. আমজাদ আলী এই সাফল্য অর্জনে বীরগঞ্জ উপজেলায় কৃষকদের জন্য একটি অধিক ফলনশীল সবজি উৎপাদনে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। 

তিনি জানান, উপজেলা কৃষি দপ্তর সব সময় আধুনিক পদ্ধতিতে দেশি পটলসহ সব ধরনের সবজি চাষে পোকা-মাকড় ও রোগ-বালাই দমনে আইপিএম পদ্ধতিসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার দিয়ে কৃষকদের ধান চাষের পাশাপাশি সবজি চাষে নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্য বীরগঞ্জ উপজেলার কৃষকেরা বিভিন্ন ধরনের উন্নত জাতের অধিক ফলনশীল এবং লাভজনক সবজি চাষে তারা এগিয়ে রয়েছেন। এ বছর তারা দেশি উন্নত জাতের পটল চাষে ব্যাপক সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের এ ধরনের সবজি চাষে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। উন্নত কৃষিতে এখন শিক্ষিত তরুণ ও যুবকেরা কৃষি কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। এটা অবশ্যই একটি সফলতা বলে আমি মনে করছি।