শিরোনাম

দেলোয়ার হোসাইন আকাইদ
কুমিল্লা, ৪ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ধীরে ধীরে পরিণত হয় দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণআন্দোলনে।
রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি কুমিল্লাও হয়ে ওঠে আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। টানা কর্মসূচি, সংঘর্ষ, দমন-পীড়ন, গ্রেপ্তার, হতাহত এবং শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন সব মিলিয়ে এক উত্তাল অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে আছে সীমান্তবর্তী এই জেলা।
জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ, কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে সংগঠিত হতে শুরু করেন। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া কর্মসূচি অল্প সময়েই বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ নেয়।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হন শিক্ষক, অভিভাবক, আইনজীবী, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ক্রমেই উত্তপ্ত হতে থাকে কুমিল্লার রাজপথ। নগরীর কান্দিরপাড়, টমছম ব্রিজ, শাসনগাছা, পদুয়ার বাজার, কোটবাড়ি, বিশ্বরোড, ঝাউতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই চলতে থাকে বিক্ষোভ, অবস্থান, মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট, টহল এবং নজরদারি বাড়ানো হয়।
২৬ জুলাই সারা দেশে জারি থাকা কারফিউ আংশিক শিথিল হওয়ার সুযোগে কুমিল্লা শহরে নতুনভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠেন আন্দোলনকারীরা। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেয়ালে আঁকা হতে থাকে প্রতিবাদী গ্রাফিতি ও স্লোগান।
একই সময়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে থাকে।
বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের ওপরও বাড়তে থাকে চাপ।
২৬ জুলাই রাত থেকে কুমিল্লায় নগরজুড়ে শুরু হওয়া চিরুনি অভিযানে অন্তত ১৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে জেলার বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা দায়ের করা হয়।

সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক আবু রায়হান বাসসকে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আমাদের অবরোধ কর্মসূচি ও শহরের কেন্দ্রস্থলে টানা আন্দোলনে সরকার দিশেহারা হয়ে পড়ে। ফল স্বরূপ, ২৬ জুলাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চিরুনি অভিযান চালায়।
প্রতিটি ছাত্রাবাসে তল্লাশি চালিয়ে গণগ্রেপ্তার করে। এমন নিপীড়ন কেবল ফ্যাসিবাদী সরকারের পক্ষেই সম্ভব।
২৭ জুলাই শহরের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি, পাল্টাপাল্টি অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সতর্ক করা হয়। অনেক এলাকায় ছাত্রদের বাসা ও মেসে তল্লাশি এবং ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন।
টানা অভিযান ও গ্রেপ্তারের পরও আন্দোলন থেমে থাকেনি। ২৮ জুলাই ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচির প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ায়। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কৌশল নির্ধারণ করেন তারা।
২৯ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন নতুন গতি পায়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। দুপুর থেকে কোটবাড়ি, বিশ্বরোড, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এবং আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে বাধা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। এ সময় এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
৩০ জুলাই একদিকে জেলা প্রশাসন নাশকতা প্রতিরোধে জরুরি সভা করে, অন্যদিকে শিক্ষার্থী ও আইনজীবীরা আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেন।
সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে কুমিল্লা জেলা পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বাসসকে বলেন, ‘সরকার মেধাবী ছাত্রদের খুন করে, গুলি চালিয়ে, হাজার হাজার শিক্ষার্থীর নামে মামলা দিয়ে গণতন্ত্র ও দেশের ভবিষ্যৎকে হত্যা করতে চেয়েছিল। একজন সচেতন মানুষ হিসেবে ওই সময় ছাত্রদের ন্যায্য দাবির পক্ষে ছিলাম। সেদিন বক্তৃতা শেষে মিছিল নিয়ে বের হতে গেলে পুলিশ আমাদের আদালত গেটেই আটকে দেয়। পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন সন্ত্রাসী এসে আমাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং আইনজীবীদের হুমকি দেয়।’
৩১ জুলাই দেশব্যাপী ঘোষিত ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লাতেও দিনভর নানা কর্মসূচি পালিত হয়। পুরো নগরজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা, চেকপোস্ট এবং প্রশাসনিক নজরদারি।
জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে ১ আগস্ট দেশব্যাপী পালিত হয় ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি।
কুমিল্লাতেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা দেয়াল লিখন, মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ, অবস্থান কর্মসূচি এবং প্রতিবাদী স্লোগানের মাধ্যমে দিনটি পালন করেন। এদিন নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে আবারও আঁকা হয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের গ্রাফিতি ও প্রতিবাদী স্লোগান।
২ আগস্ট ছিল আবেগ, শোক এবং প্রতিজ্ঞার দিন। নিহত, আহত ও নিখোঁজদের স্মরণে দেশব্যাপী দোয়া, প্রার্থনা ও গণমিছিলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমিল্লা নগরীতেও অনুষ্ঠিত হয় ছাত্র-জনতার বড় মিছিল। প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করে শত শত শিক্ষার্থী মিছিলে অংশ নেন।
৩ আগস্ট ছিল কুমিল্লার আন্দোলনের অন্যতম ভয়াবহ দিন। কুমিল্লা জিলা স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করলে তাতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ৬ জন গুলিবিদ্ধ হন।
সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্থানীয় সমন্বয়কারী নাছির উদ্দিন বাসসকে বলেন, যারা আমার ভাইদের গুলি করে হত্যা করেছে, তাদের বিচারের দাবিতে রাজপথে ছিলাম। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাই।
অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিন ৪ আগস্ট কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় দিনভর সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও প্রাণহানির ঘটনায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থানে জেলার বিভিন্ন স্থানে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত তিনজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুমিল্লা শহর ছিল সংঘাতময় ও রক্তাক্ত। তবে দিন শেষে নেমে আসে বিজয়ের উচ্ছ্বাস। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঘোষিত অসহযোগ কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে জেলার চৌদ্দগ্রাম, দেবিদ্বার, দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় চারজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। এর আগে কয়েক দিনের আন্দোলন ও সংঘর্ষে কুমিল্লায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় আটজনে।
৫ আগস্ট বিকেল ৪টায় শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর শোনার পরপরই কুমিল্লার শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে বিজয়ের উচ্ছ্বাস। রাজপথ, অলিগলি ও বিভিন্ন মোড়ে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। আনন্দ মিছিল, স্লোগান ও উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো জেলা।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ (ভিপি ওয়াসিম) বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থেকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছিলেন, বিএনপি যেন এই আন্দোলনে নিজেদের দলীয় ব্যানার বা পরিচয় সামনে না আনে।
তিনি বলেন, অতীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা সামনে থাকায় তারা প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছেন এবং আন্দোলনের গতি অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাই আমরা কৌশলগতভাবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পাশে থেকেছি। সাহস জুগিয়েছি, সহযোগিতা করেছি এবং তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়েছি।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ১৯ জুলাই কুমিল্লায় কর্মসূচি চলাকালে হামলায় আমিসহ প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন গুলিবিদ্ধ হই। যুবদলের নেতাকর্মীসহ অনেকেই আহত হন।
তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ হয়নি। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ রেখে কর্মসূচি চালিয়ে যাই। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ৭ আগস্ট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শরীর থেকে গুলি অপসারণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের সেই দিনগুলো এখন ইতিহাস। এই ইতিহাসের পেছনে রয়েছে অসংখ্য মানুষের ত্যাগ, সাহস ও সংগ্রাম।
সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু বলেন, ৩ আগস্ট শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার পর সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। কেন্দ্র থেকে আমাদের নির্দেশনা আসে ৪ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে যুক্ত হতে।
সারারাত নেতাকর্মীদের সংগঠিত করি এবং ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে পরিকল্পনা করি।
তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ওয়াসিম ভাইসহ আমরা নাজিরা বাজারে অবস্থান নেই। খবর পাই আলেখারচরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে।
মিছিল নিয়ে সেখানে গেলে আমাদের ওপর গুলি বর্ষণ করা হয়। পরে ক্যান্টনমেন্ট ফটকের সামনে অবস্থান নেই। সেখানেও গুলি শুরু হলে সেনাবাহিনীর ট্যাংক বহর আমাদের সামনে দিয়ে এগিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ফের গুলি করলে দেশপ্রেমিক সেনারা পাল্টা ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে তাদের হটিয়ে দেয়। এরপর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পুরোপুরি আমাদের দখলে চলে আসে। ৫ আগস্ট বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও ৪ আগস্ট কুমিল্লায় আমরা বিজয়ী হয়েছিলাম।
গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কুমিল্লার মানুষ শহীদদের স্মরণ, আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সেই অধ্যায় নতুন করে স্মরণ করবে। ইতিহাসের সেই উত্তাল দিনগুলোর দুই বছর পরও কুমিল্লার রাজপথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অসংখ্য পরিবারের স্মৃতিতে রয়ে গেছে আন্দোলনের নানা ঘটনা। আন্দোলনের প্রত্যক্ষদর্শী ও অংশগ্রহণকারীদের মতে, জুলাই-আগস্টের সেই ঘটনাপ্রবাহ শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাস নয়, বরং মানুষের অধিকার, সাহস এবং সম্মিলিত প্রতিরোধেরও এক অনন্য দলিল।