বাসস
  ১৩ জুন ২০২৬, ১৯:৫৯

বরিশালে গ্রাম আদালতে অভিযোগ নিষ্পত্তির হার ৯৬ শতাংশ 

ছবি: বাসস

মোফাজ্জেল হোসাইন

বরিশাল, ১৩ জুন ২০২৬ (বাসস): জেলায় ১০টি উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে বিগত একবছরে মোট একহাজার ৯৮২ টি অভিযোগ দায়ের করা হয়। দায়েরকৃত এসব অভিযোগের মধ্যে একহাজার ৯০২ টি নিষ্পত্তি হয়েছে। একবছরে মামলা নিষ্পত্তির হার ৯৬ শতাংশ। 

বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্প (৩য় পর্যায়) সূত্রে জানা যায়, গত একবছরে বরিশাল জেলায় গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তিকৃত মামলার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৯৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এছাড়া এসময়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ আদায় হয়েছে দুইকোটি ৯৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৮৫ টাকা। 

বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের (৩য় পর্যায়) জেলা ব্যবস্থাপক কমল ব্যানার্জি জানান, বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে বানারীপাড়া উপজেলায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ,  হিজলায় ৩ শতাংশ, মুলাদীতে ৩ শতাংশ, বরিশাল সদরে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, মেহেন্দিগঞ্জে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, গৌরনদীতে ৩ দশমিক ৭, আগৈলঝাড়ায় ৪ শতাংশ, বাকেরগঞ্জে ৪ দশমিক ১শতাংশ, বাবুগঞ্জে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, উজিরপুরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ মামলা গ্রহন করা হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, একবছরে মামলার জন্য আবেদনকারিদের মধ্যে ৪৪০ জন নারী। এছাড়া উচ্চ আদালত থেকে ৫৪ টি মামলা পাঠানো হয়েছে।

জেলা ব্যবস্থাপক জানান, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের আওতায় মাঠ পর্যায়ে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড সদস্যবৃন্দ, হিসাব সহকারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। 

গ্রাম আদালতে অভিযোগ দায়ের করে সুফল পেয়েছেন সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের টুমচর এলাকার মোশারফ। তিনি জানান, তার সাথে একই এলাকার জনৈক খালেক খন্দকারের সাথে জমি নিয়ে ঝামেলা ছিল। গ্রাম আদালতে অভিযোগ দায়েরের পর বিষয়টির সমাধান হয়েছে।

হিজলা উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের মোর্শেদা বেগম জানান, ২১ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে তিনমাস আগে তিনি গ্রাম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। ইতিমধ্যে সমস্যার সুষ্ঠু ফয়সালা করে দেয়া হয়েছে। 

সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী মোমেনা খাতুন জানান, গ্রাম আদালতে অভিযোগ দায়েরের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় অভিযোগ নিয়েই স্থানীয়রা আসছেন। অভিযোগ দায়েরের কিছুদিনের মধ্যেই সেগুলো নিষ্পত্তি হচ্ছে। 

এ বিষয়ে সদর উপজেলার ১০ নম্বর চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মাস্টার জানান, যে কোন অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বাদি ও বিবাদি কিংবা তাদের পক্ষে একজন করে সদস্য, সংশ্লিষ্ট এলাকার ওয়ার্ড সদস্য, একজন স্থানীয় ব্যক্তি এবং প্যানেল চেয়ারম্যান সহ মোট ৫ সদস্যের সালিশ বোর্ড গঠন হয়ে থাকে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবার উপস্থিতিতে ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের অতিরিক্ত পিপি এ্যাডভোকেট জাকির হোসেন মিন্টু মোল্লা বলেন, গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সচল থাকলে আদালতে মামলার চাপ কমে আসবে। যদি ধরা যায় বছরে একশ’ মামলা গ্রাম আদালতে পাঠানো হয়, তাহলে আদালত থেকে ওই একশ’ মামলা ও সংশ্লিষ্ট মানুষের চাপ কমে আসবে।

এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খাইরুল আলম সুমন বলেন, সরকার গ্রাম আদালতকে জনপ্রিয় করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রচার- প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসনও এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে।