বাসস
  ১৯ মে ২০২৬, ১৪:৪১
আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, ১৫:০৯

রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৪ লাখ ৬৩ হাজার গবাদি পশু

অতিরিক্ত পশুগুলো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কোরবানির হাটে সরবরাহ করা হবে। ছবি: বাসস

ওমর ফারুক

রাজশাহী, ১৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি ও বিপুল গবাদি পশুর জোগান নিয়ে জমে উঠেছে রাজশাহী জেলার কোরবানির পশুর হাটগুলো। ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠছে শহর এবং গ্রামাঞ্চলের হাটগুলো।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে,এই বছর রাজশাহীতে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় বেশি উদ্বৃত্ত রয়েছে। সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, সরকারি নির্দেশনায় এবার সীমান্ত দিয়ে কোনো ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করতে পারছে না এবং সীমান্তের হাটগুলোও বন্ধ থাকছে। ফলে বাজারে সম্পূর্ণ আধিপত্য থাকছে দেশি পশুর। যার কারণে ন্যায্য মূল্য পাওয়ার বুকভরা আশা নিয়ে হাসিমুখে দিন পার করছেন স্থানীয় খামারিরা। তারা বলছেন ভারতীয় গরু না এলে এবার পশুর ন্যায্য দাম পাবেন তারা।

রাজশাহী জেলায় এবার কোরবানির পশুর মোট চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি। তবে এই চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থদের কাছে কোরবানিযোগ্য পশু মজুত রয়েছে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১১টি। সেই হিসেবে চাহিদার চেয়েও ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ আরও জানিয়েছে, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই অতিরিক্ত পশুগুলো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কোরবানির হাটে সরবরাহ করা হবে। যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পশুর ঘাটতি মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

রাজশাহীর খামারগুলোতে লালন-পালন করা পশুর একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে গরু ও বিখ্যাত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল।

মোট মজুতকৃত পশুর মধ্যে গরুর সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি, মহিষ ৩ হাজার ৪২৫টি, ছাগল ৩ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি এবং ভেড়া রয়েছে ৪৩ হাজার ৪০৬টি। জেলায় বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৬ হাজার ২৩৪টি গবাদি পশুর খামার রয়েছে। এসব খামারে ক্ষতিকর হরমোন বা স্টেরয়েড ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে ও দেশীয় পদ্ধতিতে পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। তবে পশুখাদ্যের দাম চড়া থাকায় এবার উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

বিগত বছরগুলোতে কোরবানি ঈদের আগে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু আসায় দেশি খামারিরা প্রায়ই লোকসানের মুখে পড়তেন। অনেক সময় আসল খরচই উঠত না। তবে এবার সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে সীমান্তের অস্থায়ী হাটগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় দেশি খামারিরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। খামারিদের মতে, বিদেশি পশুর চাপ না থাকায় এবার তারা ভালো দাম পাবেন এবং বিগত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

সবুজ নামের এক খামারি বাসস’কে বলেন, ভারতীয় গরু না এলে আমাদের জন্য সুবিধা। ন্যায্য দাম না পেলে খামার চালিয়ে যাওয়া মুশকিল হবে।

তারেক নামের আরেকজন খামারি বলেন, আমরা যাতে আমাদের পশুর ন্যায্য দাম পাই এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি। হাটগুলোতে যাতে নির্বিঘ্নে কেনাবেচা করা যায় সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজশাহীর সবচেয়ে বড় সিটি হাট, বানেশ্বর হাটসহ ছোট-বড় পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় ও কোলাহল তত বাড়ছে। হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন এবং কৃত্তিম উপায়ে মোটাতাজা করা পশু শনাক্তে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ নজরদারি রাখছে। এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারীরা যাতে নির্বিঘ্নে পশু কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যেতে পারেন, সেজন্যও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান বাসস’কে বলেন, এই বছরও রাজশাহী জেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এই উদ্বৃত্ত পশুগুলো দেশের বিভিন্ন হাটে চলে যাবে। 

এবার যেহেতু সীমান্তের হাটগুলো বসবে না-সরকারি এমন নির্দেশনা রয়েছে, তাই দেশি খামারিরা কেনাবেচা করে স্বস্তির মধ্যে থাকবেন। আশা করা হচ্ছে খামারিরা তাদের ন্যায্য মূল্য পাবেন। হাটগুলোতেও খামারিদের পশু কেনাবেচায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।