বাসস
  ১৯ মে ২০২৬, ১২:২১

ভোলায় পুলিশে চাকরি প্রাপ্তদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা 

বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকরি পেয়েছেন ৩৩ জন তরুণ-তরুণী।ছবি: বাসস

ভোলা, ১৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকরি পেয়েছেন ৩৩ জন তরুণ-তরুণী।

মাত্র সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া কোনো ধরনের ঘুষ বা অতিরিক্ত টাকা ছাড়াই এই চাকরি পাওয়ায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের পরিবারগুলো খুবই আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। এমন স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে চাকরি প্রাপ্ত পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, যাচাই-বাছাই, শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

চাকরি প্রাপ্ত অনেকেই জানান, ‘পুলিশে চাকুরি পেতে লাখ লাখ টাকা ঘুষ লাগে’- এমন ধারণা ভেঙে দিয়েছে বর্তমান সরকারের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া। কোনো দালাল বা সুপারিশ ছাড়াই নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়ে তারা গর্বিত ও উদ্বেলিত।

জেলা পুলিশ কর্তৃক ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ২০২৬ সালের এই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় চাকরি প্রাপ্তদের পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, এ সংক্রান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৫ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখ থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয় এবং ৩১ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে আবেদন গ্রহণ কার্যক্রম শেষ হয়। চলতি বছরে ভোলা জেলা থেকে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে মোট ১,৫৩৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ২১, ২২ ও ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত প্রাথমিকভাবে শারীরিক সক্ষমতা যাচাই পরীক্ষা (Physical Endurance Test) ৭টি ইভেন্ট (দৌড়, লং জাম্প, হাই জাম্প, পুশ পুশ আপ, ড্রাগিং এবং রোপ ক্লাইম্বিং) এর মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও শতভাগ যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করে ৪৬০ জন পরীক্ষার্থী পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য বিবেচিত হন এবং তারা গত ৯ মে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। উক্ত পরীক্ষায় মোট ৪২ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। লিখিত পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পরপরই উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীদের মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মোট ৩৩ জন পরীক্ষার্থী প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হন এবং ৪ জন পরীক্ষার্থী অপেক্ষমান তালিকায় আছেন। পুরো ফলাফল অনুষ্ঠানটি সোমবার দুপুর থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকে।

ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার বাসস’কে জানান, সমগ্র নিয়োগ কার্যক্রমে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ মেধা, যোগ্যতা ও নির্ধারিত নীতিমালার ভিত্তিতে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভোলা জেলা পুলিশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত এসব নবীন সদস্য ভবিষ্যতে জনগণের জানমাল রক্ষা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং মানবিক পুলিশিং কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

ফলাফল ঘোষণার পর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে উত্তীর্ণ পুলিশ সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।

সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশের মতো একটি গৌরবময় বাহিনীর অংশ হতে পেরে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেগাপ্লুত হয়ে তাৎক্ষণিক অনুভূতি ব্যক্ত করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জেলা পুলিশের এই শতভাগ স্বচ্ছ ও যুগান্তকারী উদ্যোগের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গতকাল সোমবার বিকেলে ভোলার পুলিশ লাইন্সে আসা পুলিশী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পরিবারের স্বজন শহিদুল ইসলাম, আসমা বেগম,আলাউদ্দিন ও ফাতেমা বেগমের সাথে কথা হয়। তারা সকলেই আবেগঘন কন্ঠে বলেন, এমন স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়ন অব্যাহত থাকলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ আরো উচ্চতায় পৌঁছবে। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

পুলিশ সদস্য পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে নিয়োগ বোর্ডের সদস্যবৃন্দ ও ভোলা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।