বাসস
  ১৬ মে ২০২৬, ১৬:০৯
আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ১৬:১৫

ফেনীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৯০ হাজার গবাদিপশু 

ছবি: বাসস

/মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন/

ফেনী, ১৬ মে, ২০২৬ (বাসস) : পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ফেনীতে কোরবানির জন্য ৯০ হাজার ৪শ’ ৫২টি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এবারে জেলায় চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার ৯শ’ ২৭টি পশু বেশি রয়েছে। 

ঈদকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে পশুর পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্তসময় পার করছেন ৫ হাজারের বেশি খামারি। এছাড়া অনেক মৌসুমি বিক্রেতাও খুচরা বিক্রির উদ্দেশ্যে পশু সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে ১শ’ ২৯টি পশুর হাটের নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার কোরবানির জন্য জেলার ৬টি উপজেলায় গবাদিপশুর চাহিদা রয়েছে ৮২ হাজার ৫শ’ ২৫টি। এরমধ্যে ৯০ হাজার ৪শ’ ৫২টি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় ৭ হাজার ৯শ’ ২৭টি বেশি। জেলায় গরু রয়েছে ৭১ হাজার ৫শ’ ৬৯টি, ছাগল ১৩ হাজার ২শ’ ২৯টি, মহিষ ১ হাজার ৭শ’ ৩৫টি ও ভেড়া ৩ হাজার ৯শ’ ১৯টি।

গবাদিপশুর সংখ্যায় উপজেলা ভিত্তিক এগিয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলা। এখানে পশুর সংখ্যা ২৪ হাজার ৩শ’ ৬০টি। এরপর রয়েছে ফেনী সদর উপজেলা। সদর উপজেলায় গবাদিপশু রয়েছে ২২ হাজার ৪শ’১৫টি। এছাড়াও সোনাগাজী উপজেলায় ১৮ হাজার ৩শ’৭৫টি। 

দাগনভূঞা উপজেলায় ৮ হাজার ৮শ’৭৫টি। পরশুরাম উপজেলায় ৮ হাজার ৩শ’৭৮টি ও ফুলগাজী উপজেলায় ৮ হাজার ৪৯টি পশু প্রস্তুত রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬ উপজেলায় এবার স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে বসছে ১শ’ ২৯টি হাট। 

এরমধ্যে অস্থায়ী হাট ১শ’ ১৪টি ও স্থায়ী হাট রয়েছে ১৫টি। অস্থায়ী হাটের মধ্যে ফেনী সদর ও পৌরসভায় বসছে ৪২টি। ছাগলনাইয়া উপজেলা ও পৌরসভায় ১৫টি। ফুলগাজী উপজেলায় ৭টি। পরশুরাম উপজেলায় ৮টি। দাগনভূঞা উপজেলা ও পৌরসভায় ১৯টি এবং সোনাগাজী উপজেলায় ২১টি পশুর হাট ইজারা দেয়া হয়েছে।

সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল ইসলাম জানান, ফেনীতে গরু-ছাগল এর খামারে আগ্রহীর সংখ্যা বাড়ছে। তিনি বলেন, এখানে বিনিয়োগ লাভজনক ও নিরাপদ হওয়ায় অনেক নতুন উদ্যোক্তা গবাদি পশুর খামার গড়ে তুলছেন। এছাড়া অন্য জেলার চেয়ে এখানে দুধের দাম বেশি হওয়ায় গরু পালন বেশি লাভজনক।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন বাসস’কে জানান, জেলার ৫ হাজার ৪শ’ ৭টি খামারে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যা ও বিক্রির প্রস্তুতি। খামারিরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার ভালো লাভ করার আশাবাদী তারা। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে ৩৭টি মেডিকেল টিম খামার ও পশুর হাটের তদারকিতে রয়েছেন।

শহরের হাসিনা এগ্রোর সত্ত্বাধিকারী আরাফাত খান জানান, এবারও ভালো লাভের আশাবাদী সে। প্রতিটি ছোট-বড় গরুর পিছনে খরচ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার দাবী, ‘খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে খরচও বেড়েছে। ছোট গরুর পিছনে ২০ হাজার এবং বড় গরুর পেছনে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ বেড়েছে।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি ও ক্রাইম) মো. সাইফুল ইসলাম বাসস’কে জানান, পশুরহাটের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। জাল টাকা শনাক্তে ব্যাংকের সহযোগীতায় বিভিন্ন পশুরহাটে মেশিন বসানো হবে।

ফেনী  বিজিবি-৪ অধিনায়ক লে. কর্নেল এমএম জিল্লুর রহমান বাসস’কে বলেন, অবৈধভাবে গরু প্রবেশ ঠেকাতে ও কোরবানির পশুর চামড়া পাচার রোধকল্পে সীমান্ত এলাকায় পাহারা জোরদার করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, আসন্ন ঈদুল আযহার কোরবানির পশুরহাট কোনোভাবেই সড়ক-মহাসড়কের ওপর বসানো যাবে না। এছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পশু বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বাজারে জাল টাকার ব্যবহার রোধকল্পে তফসিলভূক্ত ব্যাংক সমূহের সহযোগিতা নিয়ে পর্যাপ্ত মেশিন রাখা হবে।