শিরোনাম

ঢাকা, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নির্মূলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে আরও দুটি মামলা শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে।
ইতোমধ্যেই ৬টি মামলায় রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
যে দুই মামলার রায় ঘোষণা যেকোন দিন:
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক সাত আসামির বিরুদ্ধে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা যেকোন দিন। উভয় পক্ষের শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলা রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
ওবায়দুল কাদেরের পাশাপাশি এ মামলার অপর পলাতক আসামিরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
অন্যদিকে, চব্বিশের জুলাই আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার জন অপেক্ষমাণ রয়েছে।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন।
মাহবুবউল আলম হানিফের পাশাপাশি এই মামলার অপর আসামিরা হলেন- কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। আসামীরা সবাই পলাতক।
এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি মামলার রায়ে ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ১১ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি অপর আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গত দুই বছরে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বিচারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়েছিল, এখন পর্যন্ত দুটি ট্রাইব্যুনালের দেয়া ছয়টি রায়ের মাধ্যমে সে প্রতিশ্রুতি অনেকাংশে পূরণ হয়েছে।
তিনি বলেন, দুই বছরে ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক। এছাড়া আরও দুটি মামলা শুনানি শেষে এখন রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। আমরা অপরাধী সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি।