শিরোনাম

ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : রাজধানীর কদমতলীর শনিরআখড়া এলাকায় একটি দোকানে ঢুকে গুলি করে দোকান মালিককে আহত করার ঘটনায় ২টি অস্ত্র, ৯ রাউন্ড গুলি, একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধারসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কদমতলী থানা পুলিশ।
ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ জানানো হয়, গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. মঞ্জুরুুল ইসলাম (৪৪), ইকবাল কালু (৩২), আকলিমা আক্তার রুনিয়া (৩০) ও সোনিয়া ইয়াসমিন (৪৩)।
পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে কদমতলী থানার জিয়া সরণি রোডের মেসার্স লাখি ক্রোকারিজ দোকানে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় দোকানের মালিক মো. আসলাম খান (৩৮) দোকানে বসে বেচাকেনা করছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন দুর্বৃত্ত দোকানে প্রবেশ করে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এতে আসলাম খানের মুখের ডানপাশ ও বাম হাতের কনুইয়ে গুলি লাগে। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার পর স্থানীয় জনতার সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে মো. মঞ্জুরুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি রিভলভার, নয় রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি পিস্তলের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মঞ্জুরুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে কদমতলী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত ইকবাল কালুকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণখান থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিনকে গ্রেফতার করা হয়।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তদন্তে জানা যায়, ঘটনার আগে আসামিরা নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলের পাশে অবস্থান নেয়। দোকানে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেলে শুটার মঞ্জুরুল ইসলাম দোকানের ভেতরে ঢুকে আসলাম খানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, ভুক্তভোগী আসলাম খান ও তার সহযোগীদের ক্রয়কৃত একটি জমি দীর্ঘদিন ধরে জনৈক জলিল মন্ডলের দখলে ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলার পর আসলাম খান গং আদালতের রায় পান। পরবর্তীতে গত ১৭ আগস্ট ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জলিল মন্ডলকে উচ্ছেদ করা হয় এবং আসলাম খান গং জমিটির দখল বুঝে নেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে গ্রেফতারকৃত আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে এই হামলা করে।
এ ঘটনায় কদমতলী থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বনানী থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি এবং ডেমরা থানায় চুরির পৃথক দুটি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে। অপর আসামি ইকবাল কালুর বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে।