শিরোনাম

খুলনা, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেছেন, পতিত শেখ হাসিনার শাসনামলে গুমের শিকার হয়ে এখনও পর্যন্ত যারা ফিরে আসেননি অবিলম্বে তাদেরকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
একই সঙ্গে গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারকে পূণর্বাসন করতে হবে। আর গুমের শিকার কেউ জীবিত না থাকলে সেটিও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের পরিবারকে জানাতে হবে।
এছাড়া প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২’র ১৪ (৩) ও ২১ ধারা সংশোধন করে একটি সুন্দর আইন প্রণয়ন ও তা জাতীয় সংসদে পাশ করতে হবে।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আজ রোববার মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ খুলনা ইউনিট মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি পালন করে। বেলা ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাসের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব ও অধিকার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত দিবসের বিবৃতি পড়ে শোনান ‘অধিকার’ খুলনা ইউনিটের ফোকালপার্সন সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান। বক্তারা গুমের সঙ্গে জড়িত পতিত শেখ হাসিনাসহ তার দোসরদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে ৩টি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে- গুমের অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর তদন্তভার দিতে হবে এবং তা আইনে উল্লেখ করতে হবে, গুমের শিকার যেসব ব্যক্তি এখনও ফিরে আসেনি, তাদের স্ত্রী-সন্তানরা যাতে গুম হওয়া ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব পরিচালনাসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন সেই ব্যবস্থা করতে হবে এবং যে সমস্ত ব্যক্তি গুমের পর ফেরত এসেছেন, তাদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলাকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
মানববন্ধনকালীন সমাবেশে বক্তৃতা করেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব ও আমার দেশ-এর খুলনা ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওন, বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি ও মানবজমিনের ব্যুরো প্রধান মো. রাশিদুল ইসলাম, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এসকে তাসাদুজ্জামান, গণসংহতি আন্দোলনের খুলনা জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব আল-আমিন, খুলনা থানায় পুলিশের নির্যাতনের শিকার সাবেক ছাত্রদল নেতা এসএম মাহমুদুল হক টিটো, মানবাধিকার কর্মী শেখ আব্দুল হালিম, সাবেক যুবদল নেতা জি এম রাসেল ইসলাম, খুলনা জেলা ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি শেখ ফারুক, রোটারিয়ান সাখাওয়াত হোসেন স্বপন, গুম থেকে ফিরে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো ইমরান হোসেন।
উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল হান্নান, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম, ফটো সাংবাদিক বাপ্পি খাঁন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. রায়হান মোল্লা, সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ ইমরান, মুজাহিদুর রহমান, মিশারুল ইসলাম মনির, হাফেজ মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, স্নিগ্ধা সুলতানা মুন্নি, নাবা আক্তার শারমিন, গালিব হাসান প্রমুখ।