শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): চট্টগ্রামে যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানি করে স্থানীয়ভাবে সংযোজনের (অ্যাসেম্বল) মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তর করা একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়।
আজ (বৃহস্পতিবার) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর জানায়, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে গাড়িটি আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গাড়িটি সম্পূর্ণ অবস্থায় আমদানি না করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ হিসেবে দুবাই থেকে চট্টগ্রামে আনা হয়। পরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাসের পর গাড়ির বিভিন্ন অংশ কাপ্তাই/চন্দ্রঘোনা এলাকার একটি স্থানে নিয়ে জোড়া লাগানো হয়।
পরবর্তীতে নগরীর মুরাদপুর এলাকার একটি অটোমোবাইল গ্যারেজে গাড়িটির অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ বিএমডব্লিউ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আটক গাড়িটি ২০১৪ মডেলের বিএমডব্লিউ বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। স্থানীয়ভাবে সংযোজনের পর গাড়িটি একটি পুরোনো বিএমডব্লিউয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে সড়কে চলাচল করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশন নম্বর হিসেবে চট্টগ্রাম মেট্রো-গ ১১-৩৬৫১ উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গাড়িটি পরবর্তীতে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জ এলাকার একটি ভবনের পার্কিংয়ে রাখা হয়।
আরও জানা যায়, গাড়িটির আমদানি ও স্থানীয়ভাবে সংযোজনের সঙ্গে মোহাম্মদ আইয়ুব নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাই থেকে গাড়ির অংশবিশেষ পাঠানো, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস এবং স্থানীয়ভাবে জোড়া লাগানোর পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি এবং তার সহযোগীরা জড়িত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অভিযোগকারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও রয়েছে।
এনবিআর জানায়, বন্দর থেকে খালাসের পর গাড়ির অংশগুলো প্রথমে কাপ্তাই/চন্দ্রঘোনা এলাকার একটি স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে সংযোজনের পর নগরীর মুরাদপুর এলাকার ‘অটো শপ ফাস্ট রিপেয়ার’ নামের একটি গ্যারেজে নিয়ে পরবর্তী কাজ সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ, গ্যারেজের রেকর্ড এবং আমদানি-সংক্রান্ত নথি যাচাই করা হবে।
এদিকে গাড়িটির প্রকৃত আমদানি পদ্ধতি এবং শুল্ক-কর পরিশোধের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে গাড়িটির বিল অব এন্ট্রি, ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, শিপিং ডকুমেন্ট, চ্যাসিস/ভিআইএন নম্বর, আমদানি মূল্য, ঘোষিত পণ্যের বিবরণ এবং পরিশোধিত শুল্ক-কর যাচাই করা হবে।
এনবিআর আরও জানায়, যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষিত পণ্যগুলো দেশে এনে স্থানীয়ভাবে সম্পূর্ণ গাড়ি হিসেবে সংযোজন করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয়ভাবে সংযোজনের পর গাড়িটি অন্য একটি পুরোনো বিএমডব্লিউয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে চলাচল করছিল। অভিযোগটি সত্য হলে গাড়িটির প্রকৃত পরিচয়, ভিআইএন/চ্যাসিস নম্বর এবং রেজিস্ট্রেশন তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে।
এনবিআর জানায়, যন্ত্রাংশ ঘোষণার আড়ালে পূর্ণাঙ্গ বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি, স্থানীয়ভাবে সংযোজন এবং রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত অনিয়ম প্রতিরোধে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।