বাসস
  ২৫ আগস্ট ২০২৬, ২০:০০

সমন্বিত সেবা প্রদানে তিন অধিদপ্তরের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, ২০২৬(বাসস) : দেশের সুবিধাবঞ্চিত নারী, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা, পুনর্বাসন, ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে এক ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সমাজসেবা অধিদপ্তর’, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর’ এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর’-এর মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আজ ত্রিপক্ষীয় এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। 

এ ছাড়াও সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ইয়াসমীন পারভীন এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। 

সমঝোতা স্মারকে নিজ নিজ সংস্থার পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুব এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শার্মিন জামান ।

সভায় অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক বাংলাদেশ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

তিনি বলেন, সমাজের নারী, শিশু এবং অবহেলিত শ্রেণির অধিকার যেন কেউ ছিনিয়ে নিতে না পারে এবং কেউ যেন বিচারের অভাবে নিভৃতে না কাঁদে-সে লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। 

তিনি আরও বলেন, যাদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য নেই, রাষ্ট্র সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাদের আইনি সহায়তাও প্রদান করবে। 

 আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইনি সহায়তা পাওয়া প্রতিটি মানুষের মানবাধিকার এবং মৌলিক অধিকার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই দেশে সরকারি পর্যায়ে লিগ্যাল এইডের ধারণার সূত্রপাত হয়। তিনি চেয়েছিলেন, যাদের আইনি লড়াই চালানোর আর্থিক সামর্থ্য নেই, রাষ্ট্র তাদের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করুক, তারই ধারাবাহিকতায় আজকের বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।
 
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই সরকার কাজ করে চলেছে।

প্রান্তিক ও অসহায় জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
 
ত্রিপক্ষীয় এই সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মধ্যে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় গড়ে উঠবে। 

এতে সুবিধাবঞ্চিত নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ যেকোনো সহিংসতার শিকার মানুষ এক ছাতার নিচে আইনি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন সেবা পাবেন। একটি সমন্বিত রেফারেল ও কেস ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের ফলো-আপ নিশ্চিত হবে এবং ১৬৬৯৯, ১০৯৮ ও ১০৯ হেল্পলাইনগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম আরও দ্রুততর হবে।

সমঝোতা স্মারকের শর্তানুযায়ী মাঠপর্যায়ে সেবা বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ে যৌথ কমিটি কাজ করবে। 

এছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌথ প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে। এটি আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করে অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সরকারি সেবা প্রাপ্তিকে সহজ, সমন্বিত ও সময়োপযোগী করবে।