শিরোনাম

ভোলা, ১৩ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): টানা এক সপ্তাহের বর্ষণে ভোলার নদী-নালা ও খাল-বিলে পানি বেড়েছে। এ কারণে চরফ্যাশন উপজেলার নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্ধী হয়ে পড়েছেন।
পানিতে এ অঞ্চলের মানুষের ঘর-বাড়িসহ কয়েক’শ মাছের ঘের, পুকুর, খাল ও বিল তলিয়ে রয়েছে। আর এতে মৎস্যচাষিদের বিপুল পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এলাকাবসীর অভিযোগ, বেড়িবাঁধের স্লুইসগেট বন্ধ রাখার কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে পানির প্রবাহ বেড়ে ঘর-বাড়ি, পুকুর-নালা, মাছের ঘেরসহ ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর, চরমাদ্রাজ, হাজারীগঞ্জ, জাহানপুর, চরমানিকা ও নীলকমল ইউনিয়নের বাংলাবাজার, ঘোষেরহাট, চরমানিকা ইউনিয়নের চর কচ্ছপিয়া, নজরুল নগর বাবুরহাট চর নলুয়াসহ ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চরপাতিলা ও চর নিজামে ভারী বর্ষণ ও অতি জোয়ারের প্রভাবে নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে খাল বিল, পুকুর ও জলাশয় মাছের ঘের কৃষি ফসল তলিয়ে গিয়েছে।
এছাড়াও বেড়িবাঁধের একাধিক স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বাসা-বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এর ফলে হাঁস মুরগির খামারসহ গবাদিপশুর খামারও পানিতে ডুবে আছে।
মৎস্যচাষিরা জানান, উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর বেড়িবাঁধে যেসব স্লুইসগেট রয়েছে সেগুলোর কপাট সব সময় খোলা হয় না। লিজ নেওয়া ব্যক্তিরা মাছ ধরার সুবিধার্থে অধিকাংশ সময় গেটগুলো বন্ধ রাখেন। বিশেষ করে জোয়ারের সময় খোলা রেখে অন্য সময় বন্ধ রাখে। এতে করে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি নদীতে প্রবেশ করতে না পেরে জনবসতী এলাকায় পানির পরিমাণ বেড়ে প্লাবিত হয়। সেখানকার আটকপাট, পাঁচকপাট ও এক কপাট নামক এলাকা'সহ চর মাদ্রাজ এলাকার নতুন বাজার স্লুইসগেট ও পশ্চিমাঞ্চলের স্লুইসগেট অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বাসসকে বলেন, চরফ্যাশন উপজেলার কৃষিতে প্রাথমিক হিসেবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ শাকসবজি ১২১০ হেক্টর এবং ১৭০ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সেখানে ২ হাজার ৩৬০ জন মৎস্যচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এছাড়াও ৩ হাজার ৬৭১টি ছোট-বড় মৎস্য খামার তলিয়ে গেছে। যার আয়তন ২১৮ হেক্টর। এছাড়াও ২৭২ মেট্টিক টন মাছ এবং মাছের পোনা ভেসে গেছে।
উপজেলার জাহানপুর ইউনিয়নের মৎস্যচাষি মনিরুল ইসলাম পন্ডিত, আবুল খায়ের, জসিম মিয়া ও মৎস্য উদ্যোক্তা ছালেহা খাতুন জানান, এলাকার কোটি টাকার মাছের ঘেরসহ অনেকের বাড়ি-ঘর, পুকুর, নালা পানিতে ডুবে গেছে। খামারে ছাড়া মাছগুলো পানির সাথে চলে গেছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বাসসকে বলেন, অবিরাম বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে ও সংকট মোকাবিলা এবং সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চরফ্যাশনের (ভোলা-৪ আসন) সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন বাসসকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। অসহায় পরিবারগুলোকে যথাযথ সাহায্য সহযোগিতা করা হবে।