বাসস
  ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৩:৪৫

পলাতক শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোনো রাজনৈতিক বাস্তবতা নেই : রিপন

ছবি : বাসস

ঢাকা, ৯ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, পলাতক শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসার কোনো রাজনৈতিক বাস্তবতা নেই এবং দেশের মানুষ তাকে আর কখনো গ্রহণ করবে না। 

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সংগঠকেরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. রিপন বলেন, গণভবন দখলের মতো ঘটনা জনগণের চূড়ান্ত অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ। তবে এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতির পরিবর্তন কখনো রাতারাতি আসে না; তা ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বাংলাদেশও সেই পথেই এগোচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে লুটপাট ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে আপিল বিভাগকে ব্যবহার করে নির্দেশনা আনা হয়েছিল, যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায়। তাই ফ্যাসিবাদের হাতে আর কখনো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা কোনো ধরনের অস্ত্র তুলে দেওয়া যাবে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, জুলাই জাতির আকাঙ্ক্ষার প্রতীক এবং অন্যায় ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিজয়ের নাম। 

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিবর্তন ছাড়া ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে বলেন, মানুষ এখনো জুলাইকে ভুলে যায়নি; প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়েই জুলাইয়ের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি সরকার পতনের ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্র পুনর্গঠন, ন্যায়বিচার ও জনগণের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক অঙ্গীকার। তিনি বলেন, দুই বছর পরও জুলাইয়ের পরাজিত শক্তি পরিকল্পিতভাবে এ আন্দোলনকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। তবে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেই ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়া হবে।

শহীদ জননী রোকেয়া বেগম এমপি বলেন, সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকা না থাকলে জুলাই আন্দোলন সফল হতো না। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য ছিল ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। 

জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন জনগণের সর্বস্তরের অংশগ্রহণে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রকাঠামো থেকে মুক্তির জন্য জনগণের দেওয়া সংস্কারের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।