বাসস
  ০৯ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতি নিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় ও জিআইজেডের কর্মশালা

ছবি : বাসস

ঢাকা, ৯ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : দেশের দ্রুত বিকাশমান বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) খাতের জন্য একটি সুসংগঠিত রোডম্যাপ প্রণয়নের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং জার্মানির উন্নয়ন সংস্থা- জিআইজেড, বাংলাদেশ যৌথভাবে আজ ‘ইলেকট্রিক ভেহিকল ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট পলিসি-২০২৬’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ এক অংশীজন পরামর্শ কর্মশালার আয়োজন করেছে।

কর্মশালায়, ২০২৩ সালের ‘ইলেকট্রিক মোটর রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড অপারেশন গাইডলাইন’-এ নির্ধারিত ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সব ধরনের পরিবহনে ৩০ শতাংশ ইভি ব্যবহার নিশ্চিত করার সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিল্প ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আরও কার্যকর করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের পরিবহন খাত থেকে মোট কার্বন নিঃসরণের ৮১ শতাংশই সড়ক পরিবহন থেকে আসে। ফলে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নিয়ন্ত্রিতভাবে ই-মোবিলিটিতে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুন নাসের খান। তিনি বলেন, যথাযথ প্রস্তুতি না থাকলে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় শিল্প খাত গড়ে তোলার সুযোগ হারাতে পারে এবং বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে (গ্লোবাল ভ্যালু চেইন-জিভিসি) পিছিয়ে পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানিকারক হওয়া নয়, বরং বাংলাদেশকে একটি ইভি উৎপাদনকারী দেশে পরিণত করা।’

জার্মান ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের পক্ষে জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব কো-অপারেশন ইয়ানিস হোসেন এবং জিআইজেড-বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক গমবার্ট টেকসই পরিবহন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের রূপান্তরে জার্মানির অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

জার্মান ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (বিএমজেড)-এর অর্থায়নে পরিচালিত এবং জিআইজেড বাস্তবায়িত ‘ট্রানজিশন টু সাসটেইনেবল ই-মোবিলিটি (ট্রান্স২এসএমও)’ প্রকল্পের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতি প্রণয়নে শিল্প মন্ত্রণালয়কে কারিগরি ও পরামর্শমূলক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এই সহায়তার অংশ হিসেবে জিআইজেড দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নীতিমালার খসড়া পর্যালোচনা করে তা আরও উন্নত করার জন্য কৌশলগত সুপারিশ করেছে। এর মাধ্যমে একটি মানসম্মত ও আনুষ্ঠানিক ইভি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় আইনগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র প্রায় ২ শতাংশ ছিল নিম্ন-কার্বন উৎসভিত্তিক। তবুও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ গ্রিড ইভিতে রূপান্তরের চাপ সামাল দিতে সক্ষম। এ জন্য পরিকল্পিত গ্রিড ব্যবস্থাপনা, স্মার্ট চার্জিং ব্যবস্থা এবং স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তির অগ্রাধিকারভিত্তিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুতের ঘাটতি এড়ানো সম্ভব হবে।

ইভির বাজার সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

প্রস্তাবিত নীতিমালায়, ২০৩০ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রস্তুত (সিবিইউ) অবস্থায় আমদানি করা বৈদ্যুতিক মোটরগাড়ির ওপর মোট করের হার (টোটাল ট্যাক্স ইনসিডেন্স-টিটিআই) ৩৭ শতাংশ নির্ধারণ এবং ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অংশ (সিকেডি) আকারে আমদানি করা সব ধরনের ইভির ওপর মোট করের হার ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে স্থানীয় সংযোজন ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হবে।

এছাড়া, ইভি চার্জিং স্টেশন স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ১০ বছরের আয়কর অব্যাহতির মতো গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রণোদনার বিষয়টিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

কর্মশালার সমাপনীতে গণপরিবহন আধুনিকায়ন অব্যাহত রাখা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় জানানো হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিআরটিএ, এনবিআর, স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি) এবং অন্যান্য অংশীজন যৌথভাবে প্রয়োজনীয় কারিগরি, শিল্প ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাবে।