শিরোনাম

কক্সবাজার, ৮ জুলাই, ২০২৬, (বাসস): টানা বর্ষণের মধ্যে কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আবারও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
৮ জনের মধ্যে সাতজনই শিশু। সবাই একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। এছাড়া নিহত অপর একজন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক রয়েছেন।
এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আজ বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে ৪ জন, ক্যাম্প-৩ এর জিকে হাসপাতালে ২ জন, ক্যাম্প-৬ এর আইআরসি হাসপাতালে ১ জন এবং ক্যাম্প-৫ এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ১ জনসহ মোট ৮ জনে মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
নিহতরা হলেন, ক্যাম্প-৫ এর এ-১১ ব্লকের হাশিম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা বেগম (১৩), ক্যাম্প-৩ এর এফ-১ ব্লকের আবদুস শুকুরের দুই মেয়ে উম্মে নেজাতুল (১৩) ও তার বোন উম্মে সালমা (১২) এবং ক্যাম্প-৫ এর এ-৮ ব্লকের মোহাম্মদ ইলিয়াসের মেয়ে উমাইসা বিবি (১৩)।
আহতরা হলেন, ক্যাম্প-৩ এর বাসিন্দা দিল মোহাম্মদের মেয়ে আসরা (৯), নুরুল আমিনের মেয়ে বেগম জান (১৫) ও ক্যাম্প-৫ এর বাসিন্দা বশির আহমদের মেয়ে ফারেসা বিবি (১২)। অন্য আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক এবং পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা একে মোহাম্মদ সাদেক জানান, ঘটনাস্থলে মেয়েদের একটি মাদ্রাসা এবং তার ওপরে একটি মক্তব ছিল। মাটি ভরাট করে মাদ্রাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল ধসে মাদ্রাসাটির ওপর পড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপর ওই ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা (মাঝি) দিল মোহাম্মদ বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
দিল মোহাম্মদ বলেন, ভূমিধসের সময় হিফজ খানার ভেতরে ৩০ জনের বেশি ছাত্রী ছিল।
রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বাসসকে বলেন, ক্যাম্প-৫-এর ইরানি পাহাড় এলাকায় অবস্থিত খদিজাতুল কুবরা মহিলা মাদ্রাসা ও হেফজখানার ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে।
ঘটনাস্থল থেকে সাত ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের বয়স আনুমানিক ৭ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া আহত অবস্থায় আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থলে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
এর আগে রোববার রাতে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রবল বর্ষণে আলাদা পাহাড় ধসে আটজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে একই পরিবারের কয়েকজন সদস্যও ছিলেন। আহত হন আরও বেশ কয়েকজন।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সমুদ্রবন্দরসমূহে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রতিকূল আবহাওয়া আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার সব সাইক্লোন শেল্টার (আশ্রয়কেন্দ্র) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে পাহাড়ের পাদদেশ, ঢালু এলাকা এবং বন্যাকবলিত নিচু স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধার ও জরুরি সহায়তার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক সহায়তার জন্য কন্ট্রোল রুমের নম্বর ০১৮৭২-৬১৫১৩২-এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।