বাসস
  ০৮ জুলাই ২০২৬, ২০:৪৫

রূপালী ব্যাংকের নিয়োগ-পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগে ৫ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব

ঢাকা, ৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : রূপালী ব্যাংক পিএলসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ এবং গৃহ নির্মাণ ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানে ২০১৪ সালে সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচ কর্মকর্তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে নিয়োগসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রও চেয়েছে সংস্থাটি।

আজ দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আক্তার হোসেন বাসসকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে রূপালী ব্যাংকে বিভিন্ন পদে ৮০১ জন নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ১৪ জনের পাঁচজনকে গত ৫ জুলাই দুদকে তলব করা হয়েছে। সেখানে তাদের কাছ থেকে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের তদন্ত চলমান রয়েছে।

এর আগে দুদকের সহকারী পরিচালক (ব্যাংক) মোহাম্মদ আজগর হোসেন স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইয়াছিন মোল্লাকে সদস্য এবং সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আজগর হোসেনকে দলনেতা করে দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। 

এতে বলা হয়, অভিযোগের প্রেক্ষিতে রূপালী ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশিক্ষণ ও গৃহ নির্মাণ ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

এর গত ২৯ জুন একটি নোটিশে ২০১৪ সালে সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত পাঁচ কর্মকর্তা; তাপসী রায়, তানভীর আহম্মেদ চৌধুরী, মনির হোসেন, অমৃত কুমার বাবুরী এবং মো. আখেরুল ওয়ালিদকে ৫ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, নিয়োগ পরীক্ষার আবেদনপত্র, প্রবেশপত্র, ভাইভা কার্ড ও কোটা সনদ সঙ্গে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

অপরদিকে পৃথক এক চিঠিতে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ২০১৪ সালের সিনিয়র অফিসার ও অফিসার পদে নিয়োগসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরপত্র, উত্তরপত্র, নিয়োগ অনুমোদন, নিয়োগপ্রাপ্তদের সনদপত্র, প্রবেশপত্রসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ড তলব করা হয়।

এছাড়া ওই সময়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের তথ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো তদন্ত প্রতিবেদন থাকলে তার কপি, জাল সনদের মাধ্যমে নিয়োগের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়-সম্পদসহ বিভিন্ন তথ্যও চাওয়া হয়।

দুদক জানিয়েছে, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে চাহিদাকৃত নথিপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিশনে পাঠাতে রূপালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।