বাসস
  ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৪:৪৬

ভারী বর্ষণে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে বাসিন্দারা

কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের  নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে । ছবি : বাসস

॥ সৈকত দাশ ॥

বান্দরবান, ৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের  নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।  জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গতকাল রাত থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছে।

জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মন্ডল বাসসকে বলেন, আজ বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত চব্বিশ ঘণ্টায় বান্দরবান জেলায় ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।  

জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, জেলা ও উপজেলায় মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হচ্ছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারী এবং নদীর তীরবর্তী বসবাসকারীদের জন্য ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জেলা ও উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। 

তিনি বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, অব্যাহত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাকখালী তিনটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । আজ সকাল ৯টায় তা বিপদসীমা অতিক্রম করে ১৫.৭৫ সে.মি. উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বান্দরবানের আর্মি পাড়া, ইসলামপুর, শেরে বাংলা নগরের অনেক বসবাসকারীর ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। এলাকার বাসিন্দারা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ সপরিবারে প্রশাসন ঘোষিত আশ্রয় কেন্দ্রে ছুটছেন।

থানচি উপজেলার বলিপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা থোয়াই চিং উ জানান, উপজেলার  নুতন পাড়া, হাসপাতাল রোড, বাগানপাড়া, হিন্দু পাড়াসহ আরো অনেক পাড়ার ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। অনেকে বলিবাজার উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন । এছাড়াও থানচির বলিপাড়ার বাগানপাড়ায় কালভার্ট ডুবে যাওয়ায় বান্দরবানের সাথে থানচি উপজেলার সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তবে নৌকা করে এপার থেকে ওপারে গিয়ে আবার বাসযোগে অনেকে বান্দরবানে যাচ্ছেন।

রুমা উপজেলার বাসিন্দা উবাসিং মার্মা বাসসকে বলেন,  রুমা সদর ঘাট থেকে রুমা বাসস্টেশন এলাকার একটি সেতু ডুবে যাওয়ায় উপজেলা বাজারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ওই জায়গায় নৌকায় করে মানুষ যাতায়াত করছে।

বান্দরবান সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিল্টন দস্তিদার বলেন, উপজেলায় ৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে বেলা ১১টা পর্যন্ত ১৯০টি পরিবারের প্রায় ৭০০ জন লোক আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে বান্দরবানসহ এর বিভিন্ন উপজেলায় অতিভারী এবং মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বসবাসকারীদের সরে আসার জন্য জেলা উপজেলায় প্রশাসন থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।