শিরোনাম

ঢাকা, ২৪ জুন, ২০২৬ (বাসস): রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) শ্রমিকদের জন্য একটি স্থায়ী ও টেকসই এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০২৭ সালের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বনির্ভর সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এ লক্ষ্যে ইতালির তুরিনে আইএলও’র আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (আইটিসি) অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের কর্মশালা শেষে অংশীজনরা একটি যৌথ বিবৃতিতে ইপিজেড শ্রমিকদের জন্য স্থায়ী এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস-বেপজা) প্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেন।
কর্মশালায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। এ সময় বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তা, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং আইএলও’র অ্যাকচুয়ারি ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড কর্মশালার সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
বেপজা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বেপজা, আইএলও এবং জিআইজেড-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত লেটার অব ইনটেন্টের আওতায় ইপিজেডের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য ইআইএস পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত এ প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু, স্থায়ী অক্ষমতা অথবা কর্মস্থলে যাতায়াতের পথে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর সুবিধা প্রদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৪৮ জন সুবিধাভোগী এ স্কিমের আওতায় সহায়তা পেয়েছেন। তুরিনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থায়ন ব্যবস্থা, আইনগত বিষয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা ইআইএস-বেপজাকে একটি স্থায়ী সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ করেন।
এর ফলে ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত স্থায়ী অক্ষমতা বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রথম কর্মদিবস থেকেই আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। উদ্যোগটি বেপজা ও আইএলও’র মধ্যে স্বাক্ষরিত ২০২৫-২০২৭ মেয়াদি শ্রম সংস্কার কর্মপরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কর্মশালায় বক্তব্যকালে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘শিল্পোন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে সমন্বিত হয়।
ইআইএস-বেপজা সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমরা এমন একটি শিল্পব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে উৎপাদনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ সমানভাবে গুরুত্ব পাবে।’
তিনি বলেন, শ্রমিক কল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে আরও দায়িত্বশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এদিকে সফরকালে বেপজার প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডভিত্তিক পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান ‘সুভা’র সঙ্গে বৈঠক করে।
বৈঠকে বেপজার অধীনে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রস্তাবিত কেন্দ্রটি কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমিকদের উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং কর্মক্ষমতা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া ইতালি, জার্মানি, স্পেন ও সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যবসায়ী নেতা, চেম্বার প্রতিনিধি এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেয় বেপজার প্রতিনিধিদল।
এসব বৈঠকে বাংলাদেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, আধুনিক শিল্প অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক শ্রমমান অনুসরণ এবং বিনিয়োগ প্রণোদনার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা এবং বেপজার কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তারা দেশে বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় নতুন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।